ডেস্ক নিউজ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলারের ওপরে উঠে গেছে, একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, হরমুজ প্রণালিতে দুই দেশের উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ভোরে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলার ছাড়িয়ে যায়। বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টার হিসাবে এর দাম দাঁড়ায় ১০৬ দশমিক ৮০ ডলার, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৫ শতাংশ বেশি। এর আগে বুধবার দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রথমবারের মতো তেলের দাম ১০০ ডলার অতিক্রম করে।
এই উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও। যুক্তরাষ্ট্রের S&P 500 সূচক ০.৪১ শতাংশ কমেছে, আর প্রযুক্তিনির্ভর Nasdaq কম্পোজিট সূচক ০.৮৯ শতাংশ পতন হয়েছে।
বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সাধারণত এই পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
সামুদ্রিক তথ্যভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম উইন্ডওয়ার্ডের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার মাত্র ৯টি বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। মঙ্গলবার এ সংখ্যা ছিল ৭টি এবং সোমবার ১৫টি। অথচ জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে ১২৯টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করত।
উত্তেজনা বাড়ার পেছনে বাণিজ্যিক জাহাজ আটক নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে বলেন, প্রণালিতে মাইন পাতা ইরানি নৌযান ধ্বংস করতে মার্কিন নৌবাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ এই প্রণালিতে প্রবেশ বা বের হতে পারবে না।
এর আগে পেন্টাগন জানায়, এক সপ্তাহের কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ইরানি তেলবাহী একটি ট্যাংকার জব্দ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা দুটি বিদেশি পণ্যবাহী জাহাজ আটক করেছে। সংস্থাটি জানায়, পানামার পতাকাবাহী এমএসসি ফ্রানচেস্কা এবং গ্রিসের মালিকানাধীন এপামিনোনদাস জাহাজ দুটি অনুমতি ছাড়া চলাচল ও নেভিগেশন সিস্টেমে হস্তক্ষেপের অভিযোগে জব্দ করা হয়েছে।
তবে গ্রিসের সামুদ্রিক বিষয়ক ও দ্বীপনীতি মন্ত্রণালয় এই দাবি অস্বীকার করে জানিয়েছে, এপামিনোনদাস জাহাজটি আটক হয়নি এবং এটি এখনও তার ক্যাপ্টেনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।