মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প। প্রায় ১০২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নতুন রেলপথ নির্মাণে সংশোধিত প্রকল্প ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৮ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। ২০২৩ সালে উদ্বোধনের পর এই রেললাইন দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে সরাসরি রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর ফলে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হয়েছে, পর্যটন শিল্পে গতি এসেছে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
এই রেলপথে ৯টি নতুন স্টেশন, প্রায় ৩৯টি বড় সেতু এবং ২০০টিরও বেশি ছোট সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় পানি চলাচলের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই এসব অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে এটি দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি যুগান্তকারী সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে চলতি বছরের ভয়াবহ বন্যার পর দক্ষিণ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় অনেক বাসিন্দার দাবি, রেললাইনের উঁচু বাঁধ এবং কোথাও কোথাও অপর্যাপ্ত পানি চলাচলের পথ থাকায় বন্যার পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারেনি। ফলে দীর্ঘ সময় পানি আটকে থেকে জনদুর্ভোগ ও ক্ষয়ক্ষতি বেড়েছে বলে তারা মনে করছেন।
তবে এ বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি বা স্বতন্ত্র বৈজ্ঞানিক গবেষণায় নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি যে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেললাইনই সাম্প্রতিক বন্যার প্রধান কারণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল, নদী-খালের নাব্যতা কমে যাওয়া, খাল দখল এবং অন্যান্য অবকাঠামোগত পরিবর্তনও বন্যার তীব্রতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী হতে পারে।
তারপরও স্থানীয়দের দাবি একেবারে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ এত বড় একটি রেল অবকাঠামো পানি প্রবাহের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে একটি স্বাধীন হাইড্রোলজিক্যাল ও পরিবেশগত সমীক্ষা হওয়া প্রয়োজন। কোথাও যদি পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়ে থাকে, তাহলে দ্রুত প্রয়োজনীয় সেতু বা কালভার্ট বৃদ্ধি এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।
লোহাগাড়া ও সাতকানিয়ার হাজার হাজার মানুষ এবারের বন্যায় ঘরবাড়ি, ফসল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গবাদিপশু হারিয়ে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
তাদের প্রশ্ন—যদি কোনো অবকাঠামোগত ত্রুটির কারণে এই ক্ষয়ক্ষতি বেড়ে থাকে, তাহলে তার দায়ভার কে নেবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা এবং প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা এখন সময়ের দাবি।
উন্নয়ন অবশ্যই প্রয়োজন, তবে সেই উন্নয়ন যেন পরিবেশ, পানি প্রবাহ ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগের পুনরাবৃত্তি এড়াতে উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি জলপ্রবাহ ও পরিবেশগত প্রভাবের নিয়মিত মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন নিশ্চিত করা জরুরি। প্রয়োজনে আমি এটিকে আরও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ভাষায় বা পত্রিকার প্রথম পাতার উপযোগী করে সাজিয়ে দিতে পারি।