নজরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার
সোমবার (২০ জুলাই) ২০২৬ | রাত ১০:৩৩
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
রাজধানী ঢাকাকে ‘কালেকশন হাব’ হিসেবে ব্যবহার করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্ত দিয়ে ভারতে স্বর্ণ পাচার করছে আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্র। সম্প্রতি যশোর সীমান্তে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধারের পর তদন্তে নেমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই বিস্তৃত নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছে। সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত বাহক বা চুনোপুঁটিরা ধরা পড়লেও মূল অর্থদাতা ও গডফাদাররা থাকছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
গত ৭ মে যশোর-নড়াইল মহাসড়কের নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকায় একটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে ২৬টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের ওজন ৩ কেজি ৪৮ গ্রাম এবং এর আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ কোটি ৫৮ লাখ ৭০ হাজার ৮৬৭ টাকা। এ ঘটনায় রনি, আব্দুল গনি ও ইসরাইল নামে তিনজনকে আটক করা হয়।
বিজিবির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানান, স্বর্ণের মূল মালিকরা ঢাকার উত্তরা ও আব্দুল্লাহপুর এলাকায় অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই স্বর্ণ সংগ্রহ করে যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হচ্ছিল।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. মিরাজুল ইসলাম বলেন, “স্বর্ণ উদ্ধারের পর মামলার প্রাথমিক তদন্ত শেষে তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। মূল হোতা ও অর্থদাতাদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দায়িত্বে থাকে সিআইডি।”
যশোর কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) কাজী বাদল হোসেন জানান, আটক তিন আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তদন্তের স্বার্থে চক্রটির বিষয়ে এই মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু জানানো সম্ভব নয়। এছাড়া যশোর সদর থানার ওসি মো. মাসুম খান জানান, সদর এলাকায় প্রশাসনের কড়া নজরদারির কারণে পাচারকারীরা এখন নড়াইলসহ পার্শ্ববর্তী জেলার বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে সীমান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।
সিআইডির তদন্তে গুরুত্ব
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্তে কঠোর নজরদারির ফলে বাহকরা নিয়মিত ধরা পড়লেও মূল গডফাদারদের শনাক্ত করা না গেলে পাচার পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন। সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিট এখন অর্থদাতা ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের পুরো শৃঙ্খল উন্মোচনে গুরুত্ব দিচ্ছে।
সিআইডির জনসংযোগ কর্মকর্তা পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিন বলেন, “স্বর্ণ চোরাচালানের বিভিন্ন মামলার তদন্ত নিয়মিত চলছে। অনেক মামলায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এসেছে, আবার কিছু মামলায় প্রয়োজনীয় সূত্র না পাওয়ায় তদন্ত দীর্ঘ সময় ধরে চলতে হয়।”
বিজিবির জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক শরিফুল ইসলাম জানান, যশোর, সাতক্ষীরা ও খুলনা সীমান্ত দিয়ে স্বর্ণ পাচারের প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। তবে দেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রায় সব সীমান্ত দিয়েই স্বর্ণ পাচারের চেষ্টা হচ্ছে এবং তা প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।