মনির আহমদ আজাদ / লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
বুধবার (২৯ জুলাই), রাত ১০টা
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের শাহ রশিদীয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসা সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অবৈধভাবে ভারী মাটি ও বালুবাহী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কটি বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে, যার ফলে প্রতিদিন দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, একসময় ব্রিক সলিং করা সড়কটির অধিকাংশ অংশ ভেঙে গর্তে পরিণত হয়েছে। বর্ষার পানি জমে থাকায় গর্ত ও সমতল রাস্তার পার্থক্য বোঝা দায়। সামান্য অসাবধানতায় এখানে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এই পথটি পূর্ব কলাউজানের আদারচর ও বিবিবিলা গ্রামের মানুষের শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজের প্রধান যোগাযোগ মাধ্যম।
স্থানীয়রা জানান, জরুরি রোগী ও প্রসূতি মায়েদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রায়ই অ্যাম্বুলেন্স ও সিএনজি অটোরিকশা গর্তে আটকে বিকল হয়ে পড়ে। এতে চিকিৎসা পেতে বিলম্ব হওয়ায় রোগীদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের ভারী ট্রাকে বালি ও মাটি পরিবহনের কারণেই সড়কটির এমন বেহাল দশা বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
কলাউজান ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বশিরুল আলম শরীফ বলেন, “রাতের বেলায় ভারী মাটি ও বালুবাহী যানবাহন চলাচলের কারণেই সড়কটির বর্তমান বেহাল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।”
তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। সম্প্রতি আবারও এলজিইডির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জরুরি সংস্কারের অনুরোধ জানিয়েছি। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি নিয়মিত ফলোআপ চালিয়ে যাব।”
এলাকাবাসীর দাবি, অবৈধ বালি ও মাটি পরিবহন বন্ধ করে দ্রুত সড়কটি সংস্কার করা হোক। তারা লোহাগাড়া উপজেলা প্রশাসন ও এলজিইডির প্রতি দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা জরুরি।