পিগমি মারমোসেট ছবি
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
মাত্র একটি মানুষের আঙুলের সমান আকারের একটি বানর—এমন দৃশ্য অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে। অথচ প্রকৃতিতে সত্যিই রয়েছে এমন এক প্রাণী, যার নাম পিগমি মারমোসেট (Pygmy Marmoset)। এটি বিশ্বের সবচেয়ে ছোট বানর হিসেবে পরিচিত এবং এর ছোট্ট দেহ, দ্রুত চলাফেরা ও সামাজিক আচরণের জন্য বিশ্বজুড়ে বন্যপ্রাণী গবেষক এবং প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন রেইনফরেস্টে বসবাসকারী এই প্রাণীকে অনেক সময় “ফিঙ্গার মানকি” বা “পকেট মানকি” বলেও ডাকা হয়। যদিও এটি কোনো আনুষ্ঠানিক বৈজ্ঞানিক নাম নয়।
পিগমি মারমোসেট পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট বানর।
অর্থাৎ একটি প্রাপ্তবয়স্ক পিগমি মারমোসেটের ওজন একটি মাঝারি আকারের স্মার্টফোনের কাছাকাছি হতে পারে।
আমাজন রেইনফরেস্ট ছবি
এরা মূলত আমাজন রেইনফরেস্টের উঁচু গাছের ডালপালায় বসবাস করে। খুব কমই মাটিতে নামে। সরু ডাল বেয়ে দ্রুত দৌড়ানো ও লাফিয়ে চলাফেরা করার জন্য তাদের বিশেষ অভিযোজন রয়েছে।
পিগমি মারমোসেটের খাদ্যাভ্যাস অন্যান্য অনেক বানরের তুলনায় ভিন্ন।
তাদের প্রধান খাদ্য হলো—
তাদের নিচের চোয়ালের ধারালো দাঁত দিয়ে গাছের বাকলে ছোট ছিদ্র তৈরি করে রস সংগ্রহ করতে দেখা যায়।
এই ক্ষুদ্র বানরগুলো সাধারণত ২ থেকে ১০ সদস্যের ছোট পরিবারে বসবাস করে।
পরিবারে থাকে—
মজার বিষয় হলো, বাচ্চাদের লালন-পালনে বাবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনেক সময় মায়ের চেয়ে বাবাকেই বেশি সময় বাচ্চাকে বহন করতে দেখা যায়।
পিগমি মারমোসেট অত্যন্ত সামাজিক প্রাণী।
এরা যোগাযোগের জন্য—
ক্ষুদ্র আকারের কারণে অনেক প্রাণীর কাছেই তারা শিকার।
যেমন—
বিপদ টের পেলে মুহূর্তের মধ্যে ডালের আড়ালে লুকিয়ে পড়তে পারে।
বর্তমানে পিগমি মারমোসেটকে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘের (IUCN) মূল্যায়নে “Least Concern” বা তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ধরা হলেও কিছু অঞ্চলে তাদের জন্য হুমকি বাড়ছে।
প্রধান হুমকিগুলো হলো—
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাজনের বন ধ্বংস অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এই ক্ষুদ্র বানরের অস্তিত্ব আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
পিগমি মারমোসেট শুধু একটি ছোট বানর নয়; এটি আমাজনের বনজ বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পোকামাকড়ের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, গাছের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক এবং বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এদের ভূমিকা রয়েছে। এই ক্ষুদ্র প্রাণীর অস্তিত্ব রক্ষা মানে বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধ রেইনফরেস্টগুলোর একটি—আমাজনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায়ও অবদান রাখা।