মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)
শনিবার (১৫ আগস্ট ২০২৬), রাত ৮টা ১৫ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
পর্যটননগরী কক্সবাজারে যাতায়াতে রেলপথের জনপ্রিয়তা বাড়ায় ঢাকা-কক্সবাজার রুটে যাত্রীচাপ সামলাতে নতুন ট্রেন চালুর পরিকল্পনা করছে রেলওয়ে। গত ১২ মাসে এই রুটে চলাচলকারী দুই জোড়া আন্তনগর ট্রেনে ১০ লাখ ২৯ হাজার ২৬৭ জন যাত্রী ভ্রমণ করেছেন এবং রেলওয়ের আয় হয়েছে প্রায় ৮৭ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।
সড়কপথের যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে যাত্রীরা এখন নিরাপদ ও আরামদায়ক রেলপথকে বেছে নিচ্ছেন। রেলওয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কক্সবাজার এক্সপ্রেস থেকে ৪৭ কোটি ৫২ লাখ এবং পর্যটক এক্সপ্রেস থেকে ৩৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুট থেকেও রেলওয়ে উল্লেখযোগ্য আয় করছে।
যাত্রীচাহিদার তুলনায় টিকিটের সংকট থাকায় ছুটির দিন ও পর্যটন মৌসুমে ভোগান্তিতে পড়ছেন পর্যটকরা। অনলাইনে টিকিট ছাড়ার অল্প সময়ের মধ্যেই আসন শেষ হয়ে যাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী ট্রেন ও আসনসংখ্যা বাড়ানোর দাবি জোরালো হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে নতুন করে ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ চালুর পরিকল্পনা করছে রেলওয়ে। নতুন ট্রেন যুক্ত হলে পর্যটন মৌসুমে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামলানো সহজ হবে। তবে নতুন ট্রেনটির সময়সূচি ও কোচ বিন্যাস নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সরকারি ঘোষণা আসেনি।
কক্সবাজারের সঙ্গে ঢাকার সরাসরি রেল যোগাযোগ প্রমাণ করেছে, মানুষ সড়কপথের বিকল্প হিসেবে রেলকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ভবিষ্যতে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আরও দ্রুতগতির ট্রেন চালু করা গেলে যাত্রীসেবা ও রাজস্ব উভয়ই বৃদ্ধি পাবে। তবে ট্রেনের সময় ২ থেকে ২.৫ ঘণ্টায় নামিয়ে আনার ক্ষেত্রে রেলপথের গতি ও অপারেশনাল সক্ষমতা যাচাই করা জরুরি।
শুধু পর্যটন নয়, সামুদ্রিক মাছ, শুঁটকি ও লবণ পরিবহনেও রেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যাত্রীবাহী ট্রেনের পাশাপাশি পণ্যবাহী রেলসেবা সম্প্রসারণ করা গেলে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও উৎপাদকরা উপকৃত হবেন। এছাড়া সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও রংপুরের মতো বড় শহরগুলো থেকে সরাসরি ট্রেন চালু করা গেলে পর্যটন অর্থনীতি আরও বিকেন্দ্রীভূত হবে।
রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি সময়ানুবর্তিতা, নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং অনলাইন টিকিট ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। বাস্তব চাহিদা ও যাত্রীসংখ্যার ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা গেলে দেশের পর্যটন অর্থনীতিতে এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হবে।