শাকিল হোসেন, কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
বুধবার (১৯ আগস্ট), ২০২৬
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় তীব্র গ্যাস সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত ১০ দিন ধরে আবাসিক এলাকায় গ্যাসের অভাবে চুলা জ্বলছে না, অন্যদিকে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ লাইনেও মিলছে না পর্যাপ্ত গ্যাস। এতে এম্বুলেন্স চলাচল ব্যাহত হওয়ায় মুমূর্ষু রোগীদের জীবন নিয়ে চরম শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উপজেলার ২৩টি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে ১৫টিই বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। খোলা থাকা স্টেশনগুলোতেও গ্যাসের চাপ নেই বললেই চলে। সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও চালকরা মাত্র ৩০ থেকে ৭০ টাকার গ্যাস পাচ্ছেন, যা দিয়ে ৫-৭ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়াও অসম্ভব হয়ে পড়ছে। এতে রাস্তায় গণপরিবহন কমে যাওয়ায় যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া।
এম্বুলেন্স চালক সেলিম বলেন, “রোগীর অবস্থা খারাপ, অক্সিজেন চলছে। কিন্তু ৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ৩০ টাকার গ্যাস পেয়েছি। এই গ্যাস দিয়ে ৫ কিলোমিটারও যাওয়া যাবে না। রাস্তায় রোগী মারা গেলে দায় কে নেবে?”
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় শিল্পকারখানাতেও। কালিয়াকৈরের বিভিন্ন গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল মিলে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় উৎপাদন ৪০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে রপ্তানি আদেশ বাতিল ও শ্রমিক ছাঁটাইয়ের মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
আবাসিক গ্রাহকরা জানান, রান্নার গ্যাসের অভাবে বাধ্য হয়ে তারা চড়া দামে এলপিজি সিলিন্ডার কিনছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সুযোগে এলপিজি ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে সিলিন্ডার প্রতি দাম ১৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০০-২২০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন।
এ বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল) কালিয়াকৈর জোনাল অফিসের ব্যবস্থাপক বলেন, “জাতীয় গ্রিডে এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটির কারণে সরবরাহ কমে গেছে। আমরা চাহিদার তুলনায় মাত্র ৪০-৫০ শতাংশ গ্যাস পাচ্ছি। এ কারণে আবাসিক ও যানবাহনে সরবরাহ সীমিত করা হয়েছে। কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।”