নিজস্ব প্রতিবেদক
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর), ২০২৬ | সন্ধ্যা ৫টা ৩৮ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে বর্তমান সরকার। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ে পরিশোধ করা এ অর্থের পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৫ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা। বিগত সরকারের নেওয়া মেগা প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপের মধ্যেও সরকার নিয়মিতভাবে এ দায় পরিশোধের ধারা বজায় রেখেছে।
ইআরডির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ যাবৎকালে কোনো পাঁচ মাসের ব্যবধানে বিদেশি ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ। গত বছরের একই সময়ে ঋণের পরিমাণ ছিল ১৮৯ কোটি ৭১ লাখ ডলার বা প্রায় ২৩ হাজার ৩১০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সরকারের ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ১৫ কোটি ৪ লাখ ডলার।
তথ্যমতে, মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত ঋণের আসল বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ১৩৫ কোটি ২৪ লাখ ডলার এবং সুদ বাবদ ৬৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার। এ সময়ে গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৪১ কোটি ডলারের বিদেশি ঋণ পরিশোধ করেছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, “২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিগত সরকার অবকাঠামো ও মেগা প্রকল্পের নামে ব্যাপকভাবে ঋণ নিয়েছে। কিন্তু এসব ঋণ নেওয়ার সময় প্রকল্পের অর্থের বিপরীতে প্রত্যাশিত সুফল এবং সুদের হার যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পেয়েছি। তারপরও সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে নিয়মিতভাবে এসব দায় পরিশোধ করে যাচ্ছে। এখন আমরা বিনিয়োগ, বিশেষ করে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে গতিশীলতা বাড়ানোর জন্য ঋণের ব্যবহারকে গুরুত্ব দিচ্ছি।”
ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ২৬৭ কোটি ডলার, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বেড়ে ৩৩৭ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা ৪০৯ কোটি ডলারে পৌঁছায় এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ পরিমাণ আরও বেড়ে ৪৪৯ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সরকারের নীতিনির্ধারকদের মতে, বিদেশি ঋণ পরিশোধের বর্তমান চাপ মূলত বিগত সরকারের সময়ে নেওয়া প্রকল্পগুলোর অবকাশকাল বা গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার কারণে বেড়েছে। বর্তমান সরকার নতুন ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রকল্পের অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা ও ভবিষ্যতে পরিশোধের সক্ষমতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।