নিউজ ডেস্ক
শনিবার (৩১ অক্টোবর), ২০২৬
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সারাদেশে ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ জন কৃষকের সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করেছে সরকার। এতে ঋণের বোঝা থেকে স্বস্তি পেয়েছেন প্রান্তিক কৃষকেরা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হচ্ছে। দীর্ঘদিনের ঋণের বোঝা ও খেলাপি হওয়ার কারণে নতুন ঋণ না পাওয়ার সংকটে থাকা এসব কৃষকের সুদসহ মোট ১ হাজার ৩৫২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে সরকার।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও বাজার মন্দায় জর্জরিত প্রান্তিক চাষিরা ঋণ পরিশোধের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পেয়ে নতুন উদ্যমে কৃষিকাজে মনোনিবেশ করছেন। সরকারের এই পদক্ষেপে চড়া সুদের মহাজনি দাদন ব্যবসার শৃঙ্খল ভেঙে কৃষকরা পুনরায় আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ধারায় ফিরে আসছেন। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া কৃষকদের মূল ঋণের ওপর জমা হওয়া সব সুদ ও বকেয়া মওকুফ করা হয়েছে।
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, “সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বড় উপহার। এ উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”
তিনি আরও বলেন, “কৃষক বাঁচলে উৎপাদন বাড়বে, আর উৎপাদন বাড়লে দেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তা শক্তিশালী হবে। তাই কৃষকদের টেকসই স্বাবলম্বী করতে উৎপাদন ব্যয় কমানো ও কৃষি উপকরণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কৃষি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।”
যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের নারাঙ্গলী গ্রামের কৃষক ফারুক হোসেন জানান, ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে খেলাপি হওয়ায় তিনি দীর্ঘদিন দুশ্চিন্তায় ছিলেন। ঋণ মওকুফ হওয়ায় তাকে আর গরু বা গাছ বিক্রি করতে হয়নি। একই উপজেলার ঝাউদিয়া গ্রামের কৃষক মো. মহিউদ্দিন জানান, সরকারের এই পদক্ষেপে তিনি বড় ধরনের আর্থিক চাপ থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
ঋণ মওকুফ ও কৃষি খাতের চিত্র
দেশব্যাপী এই কর্মসূচির সিংহভাগ সুবিধা দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংকটি মোট ৭ লাখ ৯ হাজার ৬৭৯ জন প্রান্তিক কৃষকের ৬০৪ কোটি ৮১ লাখ টাকা কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। বাকি ৭ লাখ ২৪ হাজার ৮০৩ জন কৃষক রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকসহ অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে এই সুবিধা পেয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো কৃষি ও পল্লী খাতে ৪২ হাজার ৮৩৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ বেশি। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঋণ মওকুফের ফলে স্থানীয় ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট দূর হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধি পাবে।