নিউজ ডেস্ক
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬), রাত ৯টা ০২ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নতুন বেতন কাঠামোর পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য ৭টি পৃথক বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ (এসআরও) জারি করতে যাচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন অনলাইনে নির্ধারণের সুবিধার্থে আইবাস প্লাস প্লাস (iBAS++) ব্যবস্থাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রজ্ঞাপন জারির পরই পে-স্কেল বাস্তবায়নের কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে। বর্তমানে প্রজ্ঞাপনের খসড়া আইনগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং ভেটিং শেষ হলেই তা আনুষ্ঠানিকভাবে জারি করা হবে।
নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে ৭টি পৃথক এসআরও-এর মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং সংশ্লিষ্ট বিধান আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হবে। এই ক্ষেত্রগুলো হলো—বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সশস্ত্র বাহিনী এবং বিচার বিভাগ।
অর্থ বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন কাঠামো প্রয়োগের ক্ষেত্রে কারিগরি ও প্রশাসনিক পার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে পৃথক এসআরও প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রজ্ঞাপন জারির পর সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে বাস্তবায়নের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নবম পে-স্কেলে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়। এতে ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।
আইবাসে বেতন নির্ধারণের ডিজিটাল ব্যবস্থা
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে বেতন নির্ধারণের ডিজিটাল ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসছে। নতুন ব্যবস্থায় প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারী অনলাইনে আইবাস প্লাস প্লাসে প্রবেশ করে পদ, গ্রেড, বর্তমান মূল বেতন, চাকরিতে যোগদানের তথ্য, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি ও পদোন্নতিসহ প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করবেন। তথ্য যাচাই শেষে নতুন কাঠামো অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর মূল বেতন ও প্রযোজ্য ভাতা সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারণ করা হবে।
অর্থ বিভাগের লক্ষ্য হলো কাগজে-কলমে বেতন নির্ধারণের পরিবর্তে তথ্যভিত্তিক ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বেতন পুনর্নির্ধারণ করা। এতে হিসাবরক্ষণ অফিসে বারবার যাওয়ার প্রয়োজন কমবে এবং ভুল হিসাব বা অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের ঝুঁকি হ্রাস পাবে। বর্তমানে আইবাস প্লাস প্লাস সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বেতন, পেনশন, বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত হচ্ছে।