নিউজ ডেস্ক
রবিবার (১১ অক্টোবর) ২০২৬, সকাল ৮টা ২৬ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ভারতের মণিপুর রাজ্যে নাগা ও কুকি-জো সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজ্যের কামজং ও উখরুল জেলায় গুলিবর্ষণের এ ঘটনায় অন্তত ১০টি বাড়ি ও ২০টি দোকান পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
কামজং জেলার চাসাদ এলাকায় শনিবার সকালে সন্দেহভাজন সশস্ত্র ব্যক্তিদের গুলিতে ২৩ বছর বয়সি মাইকেল এনগাম্মিনলেন হাওকিপ নিহত হন। এর আগে শুক্রবার রাতে চাসাদ এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ডমখোনেই তোউথাং নামের এক নারী। এছাড়া শনিবার সকালে কামজংয়ের ভারত-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নিংচৌ গ্রামে গুলিতে এনগাচানসো নিংশেন (৩৫) ও লেইশিশান লেইশাদাং (৪৮) নামের দুই নাগা গ্রামবাসী নিহত হন।
উখরুল জেলার টিএম কাসোমের কাছে ইয়াওলেন এলাকায় অতর্কিত হামলায় ৪০ বছর বয়সি সন্দীপ রাই নিহত হন। তিনি গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় সন্দেহভাজন সশস্ত্র ব্যক্তিরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। খবর পেয়ে জেলা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন।
নিষেধাজ্ঞা ও বন্ধের ডাক
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কামজং জেলা প্রশাসন চাসাদ পুলিশ গেট জংশনের আশপাশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এল এন কাশুং ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা প্রয়োগ করে ওই জংশনের ৪০০ মিটারের মধ্যে পাঁচজন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত ও অস্ত্র বহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
চাসাদে হত্যাকাণ্ড ও সমন্বিত হামলার প্রতিবাদে কাঙপোকপি জেলায় ২৪ ঘণ্টার সম্পূর্ণ বন্ধের ডাক দিয়েছে আদিবাসী ঐক্য কমিটি (সিওটিইউ)। তবে জরুরি চিকিৎসাসেবাকে এ কর্মসূচির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।
কুকি ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন (কেডব্লিউইউ) এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংগঠনটি ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩ ও ১০৫ ধারায় মামলা দায়ের, ইন্ডিয়া রিজার্ভ ব্যাটালিয়নের (আইআরবি) পোস্ট সরিয়ে নেওয়া এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।