জেলা প্রতিনিধি, পাবনা
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর), রাত ৭টা ১৭ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় অসুস্থ মাকে নিজের সঙ্গে রেখে ভরণপোষণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন সাগর হোসেন নামের এক গ্রাম পুলিশ। মাকে সঙ্গে রাখলে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে ভরণপোষণ বাবদ মাসিক অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করে দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
ভুক্তভোগী মুন্নি খাতুন (৫৫) হৃদরোগে আক্রান্ত। স্বামীর মৃত্যুর পর একমাত্র ছেলে সাগরের কাছে আশ্রয় ও নুন-পান্তা খেয়ে শেষ জীবন কাটানোর আকুতি জানান তিনি। স্থানীয় পর্যায়ে একাধিকবার চেষ্টা করেও সমাধান না হওয়ায় বাধ্য হয়ে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন এই বৃদ্ধা মা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে ইউএনও সেলিম আহমেদ সাগরকে তার মাকে নিজের সঙ্গে রেখে দেখাশোনা করার জন্য বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে সাগর তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।
সাগর হোসেন বলেন, “মাকে আমার সঙ্গে দিলে আমি সুইসাইড করব। আমি মাকে সঙ্গে রাখতে পারব না। স্যার, আপনি বলে দেন, আমি মাকে মাসে কত টাকা দেব।”
মুন্নি খাতুন বলেন, “আমার স্বামী অনেক আগেই মারা গেছেন। আমি অসুস্থ মানুষ, হার্টের রোগী। আমার এখন ছেলেকে ছাড়া আর কে আছে? আমি ছেলের কাছে টাকা-পয়সা চাই না। নুন-পান্তা খেয়েও যদি ছেলের সঙ্গে থাকতে পারি, তাহলে বাকি জীবনটা পার করে দিতে পারব।”
নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম জানান, মা-ছেলের বিষয়টি শুরু থেকেই তিনি সমাধানের চেষ্টা করেছেন। তবে কোনো কিছুতেই রাজি হন না সাগর। স্থানীয়ভাবে সমস্যাটি সমাধানে ব্যর্থ হওয়ার পর মা ইউএনওর কাছে অভিযোগ করেন।
ইউএনও সেলিম আহমেদ বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর উভয়পক্ষকে ডেকে শুনানি করা হয়েছে। আমরা ছেলেকে বিষয়টি মানবিকভাবে দেখার জন্য বোঝানোর চেষ্টা করেছি। তাকে কয়েক দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিষয়টি কীভাবে সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”