নজরুল ইসলাম, যশোর প্রতিনিধি
শুক্রবার (৬ নভেম্বর ২০২৬), সকাল ১১টা ১৬ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
যশোর সদর উপজেলার শানতলা এলাকায় পরকীয়ার সন্দেহে স্ত্রীকে হত্যার পর থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন আতিয়ার রহমান নামে এক ব্যক্তি। শুক্রবার (৬ নভেম্বর ২০২৬) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নিজ বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত শাহানাজ খাতুন ওরফে শাহানারা আতিয়ার রহমানের স্ত্রী।
নিহতের স্বজনরা জানান, পরকীয়ার সন্দেহে চার মাস আগে শাহানাজ খাতুনকে তালাক দিয়েছিলেন আতিয়ার। তবে গত সপ্তাহে তাদের সন্তান রায়হানের মধ্যস্থতায় তারা পুনরায় সংসার শুরু করেন। কিন্তু পুনরায় সন্দেহের জেরে আজ ভোরে নিজ বাড়িতে শাহানাজকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন আতিয়ার।
নিহতের ছেলে রায়হান জানায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বাবা ও মায়ের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাবা ক্ষিপ্ত হয়ে মাকে মারধর করেন এবং গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা শাহানারাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রীমা খাতুন বলেন, “আতিয়ারের সঙ্গে তার স্ত্রীর দীর্ঘদিন ধরে ঝামেলা ছিল। শাহানারার সঙ্গে অন্য কারও পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ করতেন আতিয়ার। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিচ্ছেদও হয়েছিল। পরে তাদের ছেলে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে মাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনে।”
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাজীব রায়চৌধুরী বলেন, “শাহানারাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) মো. বদরুজ্জামান বলেন, “হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযুক্ত স্বামী আতিয়ার রহমান থানায় উপস্থিত হয়ে হত্যার কথা স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। আতিয়ার বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”