নিউজ ডেস্ক
শনিবার (৭ নভেম্বর), ২০২৬
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
‘যিশুর দেখা পাওয়ার’ প্রলোভন দেখিয়ে অনুসারীদের অনাহারে রেখে ১৯১ জনকে হত্যার দায়ে কেনিয়ার ধর্মীয় গোষ্ঠী ‘গুড নিউজ ইন্টারন্যাশনাল মিনিস্ট্রিজ’-এর প্রধান পল ম্যাকেনজিকে ২০০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) কেনিয়ার একটি আদালত এ রায় ঘোষণা করেন, যেখানে নিহতদের অধিকাংশই শিশু। একই মামলায় তার ২৮ সহযোগীকেও বিভিন্ন মেয়াদে সর্বোচ্চ ১৬০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, পল ম্যাকেনজিকে হত্যার দায়ে ১০০ বছর এবং অনুসারীদের অনাহারে রাখার অপরাধে আরও ১০০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে সাজাগুলো একসঙ্গে কার্যকর হওয়ায় তাকে সর্বোচ্চ ১০০ বছর কারাভোগ করতে হবে। তার সহযোগীদের মধ্যে ছিল উপবাসের নির্দেশ কার্যকর করতে পাহারায় থাকা ব্যক্তি এবং মরদেহ গুমের কাজে জড়িত লোকজন।
বিচারক ডায়ানা মোচাচে রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, অনুসারীদের অনাহারে মৃত্যুর নির্দেশ দেওয়ার মূল দায় ম্যাকেনজির। এমন নৃশংস অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিতেই এই সাজা দেওয়া হয়েছে। প্রসিকিউশন আসামিদের মৃত্যুদণ্ড চাইলেও আদালত তা দেননি, কারণ বিচারকের মতে মৃত্যুদণ্ড দিলে অপরাধীদের সংশোধনের সুযোগ থাকে না।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, অনুসারীরা ম্যাকেনজিকে ‘যিশুর কণ্ঠস্বর’ মনে করত। তার নির্দেশ অমান্য করলে তাদের মারধর করা হতো। এমনকি যারা উপবাস করতে চাইত না, তাদেরও নির্যাতন করা হতো। মরদেহ বনে পুঁতে রাখাকে তারা ‘যিশুর সঙ্গে বিয়ে’ বলে প্রচার করত।
২০২৩ সালে কেনিয়ার উপকূলীয় শাকাহোলা বনের গণকবর থেকে চার শতাধিক মরদেহ উদ্ধারের পর ম্যাকেনজিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ময়নাতদন্তে দেখা যায়, অধিকাংশ শিশুর মৃত্যু হয়েছে দীর্ঘদিন অনাহারে থাকার কারণে। এছাড়া কয়েকটি মরদেহে শ্বাসরোধ ও মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্নও পাওয়া গেছে।
২০০৩ সালে ম্যাকেনজি এই ধর্মীয় গোষ্ঠীটি প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি আধুনিক শিক্ষাকে ‘শয়তানের ফাঁদ’ এবং চিকিৎসাসেবা গ্রহণকে ধর্মবিরোধী বলে প্রচার করতেন। ২০১৯ সালে গির্জা বন্ধ করে অনুসারীদের নিয়ে তিনি শাকাহোলা বনে আস্তানা গড়েন। তবে ম্যাকেনজির বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত নরহত্যা ও সন্ত্রাসবাদের পৃথক অভিযোগে বিচার এখনো চলছে। এসব অভিযোগেও তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।