খান কেএম শরাফত উদ্দীন, বাঘারপাড়া থেকে।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাঘারপাড়া উপজেলার জামদিয়া ইউনিয়নের জয়রামপুর গ্রামের মৃত মোক্তার সরদারের বাড়িতে ২২ অক্টোবর শনিবার দিবাগত রাতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র চেতনানাশক জাতীয় ওষুধ খাবারের মিশিয়ে পরিবারের সকলকে অজ্ঞান করে নগত অর্থ স্বর্নলংকার সহ আনুমানিক ১০/১২ লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। সরোজমিনে যেয়ে দেখা যায় পরিবারের লোকজন কমবেশি সকলেই অসুস্থ্য।
ভুক্তভোগীরা জানান শনিবার রাত ১০ টা দিকে রাতের খাবার খেয়ে যে যার রুমে ঘুমিয়ে পড়ে । এই সুযোগে পরিকল্পিত একটি সংঘবদ্ধ চোর চক্র গেটের তালা খুলে ঘরের ভিতর থাকা নগত অর্থ ৩০ হাজার টাকা, ৮/১০ ভরি সোনার গহনা নিয়ে পালিয়ে যায়। পরদিন ২৩ অক্টোবর রোববার ভোরে এলোমেলো ঘুম ঘুম চোখে ওই পরিবারের রাকিবের মা সর্ব প্রথম ঘুম থেকে উঠে সবাইকে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু কারোর কোন সাড়া না পেয়ে ঘরের ভেতর গিয়ে তিনি সবাইকে জাগানোর চেষ্টা করেন। এরপর সকলের ঘুম ভাংলেও ,তাদের উঠে দাঁড়ানোর মতো শক্তি ছিলো না । সবার এ অবস্থা দেখে তিনি চিৎকার করতে থাকেন। রাকিবের মায়ের চিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে আসেন এবং দ্রুত চিকিৎসককে খবর দিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং চিকিৎসা করার ব্যবস্থা করেন। ওই পরিবারের ১৩ জনের মধ্যে ১০ জন অজ্ঞান হয়ে পড়েন।
এব্যাপারে রাকিব স্থানীয় সাংবাদিকদের জানায়, অজ্ঞান পর্টির কবলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে মা বাবা, চাচা
চাচি, দাদি, ফুফু ও একজন কামলা। তাদের মধ্যে রাকিবের দাদির অবস্থা খুব খারাপ। স্থানীয় চিকিৎসক অলিপ বসু সার্বক্ষণ চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে আলাদীপুর বাজারের চিকিৎসক ফজলুর রহমান বলেন, এটা চেতনানাশক জাতীয় ওষুধ খাবারের সাথে মিশিয়ে দেয়া হতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা। পরিবারের সদস্য মোঃ জাহিদ সরদার বলেন, পরিকল্পিত
ভাবেই এই কাজ করেছে কেউ। তবে কে বা কাহারা করেছে তা তো কেউ বলতে পারে না, কারণ সবাই তো জ্ঞান হারা।
এবিষয়ে বাঘারপাড়া থানা কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। প্রশাসন সরোজমিনে এসে ঘুরে গেছে, মামলার প্রস্তুতি
চলছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ১৪ই অক্টবর একই ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামের সোহেল, কাছেদ, ও কুদ্দুস আলির বাড়িতে এবং ১৮ অক্টবর রাতে করিমপুর গ্রামের মহুরী শহিদুল্লাহর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ১৫ দিনের ব্যাবধানে এমন সব ডাকাতি সংগঠিত হওয়ায় এলাকার মানুষ চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।