কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার মধ্যম মাঝিগাছা গ্রামে যুবককে ডেকে নিয়ে বেদম পিটুনি দেন প্রেমিকার বাবা-চাচা। রোববার (৭ মে) হাসপাতালে মারা যান। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে ওই যুবকের বাবাও মারা গেছেন।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ওই যুবকের নাম মাহিন মিয়া (২০)। তার বাবার নাম হিরণ মিয়াও (৫০)। আর অভিযুক্তরা হলেন- প্রেমিকার বাবা মোজাম্মেল ও চাচা জাহাঙ্গীর।
নিহত মাহিনের ছোট ভাই আলম জানান, তার বড় ভাই মাহিনের সঙ্গে প্রতিবেশী সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া একটি মেয়ের সাথে এক বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। গত বৃহস্পতিবার রাতে মাহিনকে মেয়ের বাবা মোজাম্মেল মিয়া ও চাচা জাহাঙ্গীর হোসেন বাড়িতে ডেকে নিয়ে বেদম পিটুনি দিয়ে বেঁধে রাখে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মাহিনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোববার সকালে কিছুটা সুস্থ বোধ করলে মাহিনকে ছাড়পত্র দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এরপর বেলা ১১টার দিকে হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যায় মাহিন। এ অবস্থায় আবারও তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বাবা হিরণ মিয়া বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাড়ির লোকজন হিরণ মিয়াকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনার পর প্রেমিকার বাবা ও চাচাসহ স্বজনেরা ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়। মাহিনের প্রেমিকা জানায়, ‘তিনি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আমার বাবা ও চাচা মাহিনকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। আমি হত্যার বিচার চাই।’
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কামরান হাসান বলেন, হামলার ঘটনায় নিহত ছেলেটি বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে আছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ ঘটনায় মামলা হবে। দোষীদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।