কলকাতায় খুন হওয়া ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যাকাণ্ডের নতুন বেশকিছু তথ্য সামনে এসেছে। কলকাতার সঞ্জীভ গার্ডেনের ফ্ল্যাটে খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ‘কসাই’ জিহাদ পুলিশকে এসব তথ্য জানিয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
গ্রেপ্তার জিহাদ জানায়, আনোয়ারুলের দেহ ৮০ টুকরো করে নিউটাউন, ভাঙড় এলাকার নানা জায়গার জলাশয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তার বিনিময়ে সে ৫০০০ টাকা পেয়েছে ।
খুনের তদন্তকারীরা মনে করছেন, দেহের খণ্ডাংশ জলাশয়ে ফেলে দেওয়ায় তা উদ্ধার করা কঠিন হয়ে গেল। ইতোমধ্যেই টুকরোগুলো পানিতে থাকা কোনও না কোনও প্রাণীর পেটে চলে গিয়ে থাকতে পারে।
শুক্রবার ‘কসাই’ জিহাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে অভিযুক্ত জানায়, খুনের পর আনোয়ারুলের দেহ ৮০ টুকরো করে মস্তিষ্ক সম্পূর্ণ মিশিয়ে দেওয়া হয়। হাড়, মাংস পৃথক করে হলুদ মাখিয়ে একেকটি টুকরো একেক জায়গার জলাশয়ে ফেলা হয়েছে।
তদন্তে জানা যায়, ব্যবসায়িক লেনদেনের সম্পর্কে কিছু বিষয়ে এমপি আনোয়ারুল আজীম আনারের ওপর ক্ষোভ ছিল তার বন্ধু ও হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী আক্তারুজ্জামান শাহীনের। ২০০ কোটি টাকার ভাগাভাগি নিয়ে আনোয়ারুলকে খুন করা হয়। আগেও একাধিকবার এমপি আনারকে খুনের হুমকি দিয়েছিল শাহিন।
সর্বশেষ গুলশান এবং কলকাতার নিউমার্কেটে দুদফায় তৈরি করা হয় হত্যার ব্লুপ্রিন্ট। এরপর গত ১২ মে এমপি আনার কলকাতায় চিকিৎসা করাতে গেলে পরিকল্পনা অনুযায়ী গ্যাংয়ের সদস্য শিলাস্তির মাধ্যমে তাকে ‘হানিট্র্যাপে’ ফেলা হয়। এরপর নিউটাউনের ফ্ল্যাটে এনে ১৩ তারিখ রাতে আনারকে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় বাংলাদেশ থেকে গ্রেপ্তার করা হয় হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকা আমানুল্লাহ ওরফে শিমুল ভূঁইয়া, শিলাস্তি রহমান ও তানভীর ভূঁইয়াসহ তিনজনকে। তাদের তিনজনকে ৮ দিন করে রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। আমাদের সময়ডটকম