রাজশাহী প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
রাজশাহীর বাগমারায় চায়ের দোকানে ঢুকে এক যুবককে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত তরুণকে আটক করে পিটিয়ে হত্যা করেছে। শুক্রবার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে ঝিকড়ার রনশিবাড়ি বাজারে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত প্রথম ব্যক্তি আবদুর রাজ্জাক (৩৫), যিনি নওগাঁর আত্রাই উপজেলার গোয়ালবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম (২২), যিনি একই গ্রামের বাসিন্দা, চায়ের দোকানে ঢুকে আবদুর রাজ্জাককে ছুরিকাঘাত করেন। ঘটনাস্থলেই রাজ্জাকের মৃত্যু হয়। এরপর আমিনুল পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা তাকে ধাওয়া করে এক বাড়িতে অবরুদ্ধ করে ফেলে।
পুলিশ আমিনুলকে উদ্ধারের চেষ্টা চালালেও ক্ষুব্ধ জনতার বাধায় ব্যর্থ হয়। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে জনতা বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে আমিনুলকে বাইরে এনে পিটিয়ে হত্যা করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মারধরের একপর্যায়ে তার মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করা হয়, যা তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এই সহিংস ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শক সাদিকুল ইসলামসহ ছয়জন আহত হয়েছেন। বাগমারা থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত আবদুর রাজ্জাক একজন মাছ ব্যবসায়ী ছিলেন, আর আমিনুল ইসলাম বখাটে ও মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত ছিলেন। চার দিন আগে এক নারীকে মারধরের ঘটনায় আমিনুলের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। তবে এই হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো পরিষ্কার নয় এবং পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।