1. bdtelegraph24@gmail.com : বিডিটেলিগ্রাফ ডেস্ক :
  2. suma59630@gmail.com : ফাতেমা আকতার তোয়া : ফাতেমা আকতার তোয়া
  3. limonhosen529@gmail.com : Limon Hossain : Limon Hossain
  4. mirzagonj@bdtelegraph24.com : মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি : মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি
  5. tarim7866@gmail.com : তারিম আহমেদ : তারিম আহমেদ
  6. wasifur716@gmail.com : Wasifur Rahaman : Wasifur Rahaman
৫শ বছরেও ২০ গ্রামের মানুষের কষ্ট লাঘব হলো না সেই বাঁশের সাঁকো ও ভেঙ্গে গেছে - bdtelegraph24.com
বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রাঙামাটিতে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শারদ উপহার ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ প্রিয় শিক্ষকের অশ্রুসজল ও বর্ণিল বিদায় শরণখোলায় নারিকেল পাড়তে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে কিশোরের মৃত্যু শ্যামনগরে বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার বিষয়ক রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ শ্যামনগরে সিবিডি কপ -১৭ বিষয়ক কমিউনিটি পর্যায়ে পরামর্শ সভা মাঝ আকাশে ১৭ হাজার ফুট উচ্চতায় ইন্ডিগোর বিমানে বজ্রপাত, নিরাপদে অবতরণ প্রধান শিক্ষক নিয়োগে আইনি বাধা কাটল, ১৫ অক্টোবর থেকে পরীক্ষা পাঁচশ বছর ধরে বিরতিহীন কুরআন তেলাওয়াত ইস্তাম্বুলের তোপকাপি প্রাসাদে ঢাকার বাতাস আজও অস্বাস্থ্যকর, দূষিত শহরের তালিকায় সপ্তম অবস্থানে ভারতীয় অভিনেতা নানা পাটেকার আর নেই

৫শ বছরেও ২০ গ্রামের মানুষের কষ্ট লাঘব হলো না সেই বাঁশের সাঁকো ও ভেঙ্গে গেছে

  • সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৫
  • ৬৭৮ জন খবরটি পড়েছেন

আজিজুল ইসলাম।

হোয়াটসঅ্যাপে ফলো করুন
Telegraph Bangladesh WHATSAPP Channel

হোয়াটসঅ্যাপে ফলো করুন

দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।

সরকার যায়, সরকার আসে, ক্ষমতা বদলায় কিন্তু ভাগ্য বদলায় না বাঘারপাড়া ও শালিখা উপজেলার হাজার হাজার মানুষের। যশোর জেলার বাঘারপাড়া ও মাগুরার শালিখা উপজেলার কয়েক হাজার মানুষের দুর্ভোগ যেন নিত্যদিনের সঙ্গী।

যশোরের বাঘারপাড়ার নারিকেল বাড়িয়া ও মাগুরার শালিখার শতখালী ইউনিয়নের উত্তর- দক্ষিনাঞ্চলের মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে চিত্রা নদী। এই নদীর খানপুর বাজার ঘাটের ওপর কোনো সেতু না থাকায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন অন্তত ৩০ হাজার মানুষ।

যুগের বিবর্তনে প্রায় ৫শতাধিক বছর অতিক্রান্তের পরও অদ্যবধি কোন সেতু নির্মান হলো না। কালের বিবর্তনে উভয় পাড়ের নদী সংশ্লিষ্ট অন্তত ২০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষের চলাচলের জন্য সেই বাঁশের সাকোই রয়ে গেল। যখন থেকে নদী পথে মানুষের চলাচল শুরু হয়েছিল তখন থেকেই চালু হয়েছিল এই খানপুর বাজার (শিববাড়ি) ঘাটে খেয়া নৌকার পারাপার। নদী পথে যোগাযোগের শুরু থেকেই জনশ্রুতিতে জানা যায় সেই আমলে খেয়া নৌকার মাঝিরা পারাপারের কড়ি হিসাবে উভয় পাড়ের অন্তত ২০ গ্রামের লোকের বাড়ি বাড়ি ধান আদায় করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতো। কথিত আছে মোঘল সম্রাট শেরশাহের আমলে জমিদারদের রাজত্বের আমলে চিত্রা নদীর তীরে খানপুর গ্রামে শিবমন্দির নির্মিত হয়। সেই আমলে শিবমন্দির ঘিরে এখানে হাট বাজার গড়ে ওঠে।

বাজার ঘেষে চিত্রা নদী পারাপার হতে শিববাড়ি ঘাট ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। সেই আমলে ব্যাবসা বানিজ্যে এই চিত্রা নদী দিয়ে সওদাগরেরা ঢাকা,খুলনা,বরিশাল-কলিকাতাসহ বিভিন্ন দুর দরান্তে নদী পথেই চলাচল করত। বড় বড় পানসি নৌকা,জাহাজ এই শিববাড়ি,ঘাটেই ভীড়তো। নদীর এপার ওপার করার জন্য মাঝিরা খেয়া নৌকায় পারাপার করত। পরবর্তীতে স্থলপথে রাস্তাঘাটের প্রসার লাভ হওয়াই খেয়া পারাপার বন্ধ হয়ে পড়ে। তখন উভয় পাড়ের গ্রামগুলোর মানুষ বাশেঁর সাকো নিমার্ন করে চলাচল অব্যাহত রাখে। উভয় পাড়ের স্বানীয় গ্রামবাসী নিজেদের অর্থায়নে প্রতিবছর এই বাশের সাকো নিমার্ন করে থাকে। শিববাড়ি ঘাটের পাড়েই খানপুর বাজার,খানপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খানপুর দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে। প্রতিবছর ঝুঁকিপুর্ন এ বাশেঁর সাঁকো দিয়ে কয়েক‘শ শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন পারাপার হয়ে স্কুল মাদ্রাসায় যাওয়া আসা করে থাকে। বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতিদিন হাজার হাজার লোক জীবনের ঝুকি নিয়ে এই বাঁশের সাকো দিয়েই পারাপার হয়ে থাকে।

এখানকার বাসিন্দাদের এমন দুর্দশা লাঘবে একটি স্থায়ী সেতু নির্মানের জন্য স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে বার বার আবেদন নিবেদন করেছেন তবে আশ্বাস মিলল্ওে ব্রিঝ মেলেনি। এমনকি সাঁকো নির্মানের জন্য সরকারি কোন অনুদানও মেলেনি। প্রতিবছর দুপারের বাসিন্দারা সেচ্ছাশ্রমে নিজেদের প্রয়োজনে বাশেঁর সাঁকো নির্মান করে থাকেন। চাঁদা তুলে কেনেন বাঁশখুটি। এটির তত্তাবধান ও করে থাকেন খানপুর বাজার কমিটি। একপর্যায়ে বাশেঁর সাঁকোটি ভেঙে গেলে স্থানীয়দের চলাচলে দুভোর্গ চরমে পৌছে যায়।
তাদের দাবি সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হোক। সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন সাবেক যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য রনজিত রায়।

নিরুপায় এলাকাবাসী এবার আর নির্মাণ করতে পারছেন না সেই ভাঙ্গা বাঁশের সাঁকো। সরেজমিনে খানপুর ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, বাঁশের সাঁকো না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চিত্রা নদী পার হচ্ছে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। একটি স্থায়ী ও টেকসই সেতুর অভাবে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন স্থানীয়রা।

বাজার কমিটির সভাপতি অশোক বিশ্বাস জানান- সপ্তাহে দুদিন শুক্র ও সোমবার খানপুরে হাট বসে। নদীর উত্তর পাড়ের শালিখা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পন্য বিক্রি করতে আসেন এ হাটে। এছাড়া কয়েকশ শিক্ষার্থী পারাপার হয় এ সাঁকো দিয়ে। বাজার কমিটির সাধারন সম্পাদক হারুন অর রশিদ বলেন সাপ্তাহিক হাট বাদেও প্রতিদিন বৈকালিন বাজার বসে। বাজার বাদেও দিনের বেলা সকাল থেকে রাতঅবধি প্রায় সহস্রাধিক লোকের আনাগোনা চলে এবাজারে। বাজারের দক্ষিনপার্শ্বে রয়েছে ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-প্রাইমারী, হাইস্কুলও দাখিল মাদ্রাসা। এসমস্যা সমাধানের জন্য আমরা নিজেদের অর্থায়নে সেতু নির্মান করে থাকি। এছাড়া প্রতি বৃহস্পতিবার এই শিব মন্দিরে পুজা দিতে নদীর উত্তর পাড়ের কয়েকটা গ্রাম থেকে ভক্তবৃন্দ সমবেত হয়ে থাকে।

খানপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক পলাশ কুমার জানান, স্কুল সংলগ্ন বাজার ঘাটে একটা স্থায়ী বেইলি ব্রিজ নির্মান খুবই জরুরী। বাঁশের সাকো পারাপারে অনেক সময় দূর্ঘটনা ঘটে। বর্ষাকালে সমস্যা প্রকট আকার ধারন করে। কাদামাটিতে একাকার হয়ে স্কুলগামী ছেলে -মেয়েরা নদিতে পড়ে যায়। তিনি বলেন কে বা কারা রাতের আধারে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো টি ভেঙ্গে ফেলেছে । ফলে স্কুল-মাদ্রাসায় কোমলমতি ছেলে মেয়েরা আসতে পারছে না।

খানপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার খায়রুল ইসলাম জানান, নদী পার হয়ে শালিখার কয়েকটি গ্রামের ছেলে-মেয়েরা মাদ্রাসায় আসতে দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে। তাছাড়া প্রতি বছর সাঁকো নির্মানে আমাদের তিন প্রতিষ্ঠান থেকে সহসোগিতা করতে হয়। তিনি বলেন, প্রতি বছর বর্ষাকালে নিজেদের অর্থায়নে বাঁশের সাঁকো তৈরি করলেও যাতায়াতের ক্ষেত্রে অধিক চাপের কারণে সাঁকোটি দুই থেকে তিন মাসের বেশি স্থায়ী হয় না। ফলে বছরজুড়েই থাকে এ দুর্ভোগ।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তাদের চলার কোনো পথ নেই। এছাড়া, শিক্ষার্থীরা ঠিকভাবে স্কুল-কলেজে যেতে পারছে না। ফলে লেখাপড়ায় পিছিয়ে আছে এ অঞ্চলের ছেলে-মেয়েরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না হওয়ায় এ এলাকার সঙ্গে অনেকে আত্মীয়তাও করছে না। সম্প্রতি ঠিক হয়ে যাওয়া একটি বিয়ে ভেঙে গেছে শুধু সেতু না থাকার কারণে, এ কথা জানিয়েছেন সেখানকার এক কৃষক।

স্থানীয় সংগঠক ও গণমাধ্যমকর্মী বলেন, খানপুর বাজারের দোকানে ভারী মালামাল আনা নেয়া করতে প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে চলাচল করতে হয়।

সেতু না হওয়ার কষ্টের কথা জানান হরিশপুর গ্রামের ওছমান আলী। তিনি বিডিটেলিগ্রাফ কে বলেন,দেশ স্বাধীনের পর অনেক কিছুই হইচে, খালি আমাদের ঘাটে একখান পুল কেউই করে দিল না। বাঁশের সাঁকো বারে বারে ভেঙ্গে যায়, স্কুল-মাদ্রাসা যাতি ছেলেপেলেরা ভয় পায়। এইভাবে আর কদ্দিন কষ্ট করা লাগবে আল্লায় জানে।’

স্থানীয় মাদরাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থী আব্দুল কাদির জানায়, খুব কষ্ট করে সাঁকোর ওপর দিয়ে নদী পারাপার হতে হয়। অনেক সময় ভয়ে বুক কাঁপে, যদি দুর্ঘটনা ঘটে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে শুনে আসছি এখানে সেতু হবে কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি।

নারিকেল বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সোহাগ খান জানান, নদীর অপার থেকে বিভিন্ন স্কুল,মাদ্রাসার অন্তত দুইশ শিক্ষার্থী এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে নিয়মিত পারাপার হয়। তাছাড়া এই সাঁকো পার হয়ে শালিখার সীমাখালী বাজারসহ অনেক প্লাইউডমিল কারখানার শ্রমিকরা যাওয়া আসা করে থাকেন। এযাবত সেতু নির্মাণের জন্য অনেক জনপ্রতিনিধি ভোটের সময় আশ্বাস দিলেও নির্বাচিত হওয়ার পর তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
নারিকেল বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারমান বাবলু সাহা বলেন, এখানে স্থায়ী সেতু নির্মান করা খুবই জরুরি ।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2025
Theme Customized By BreakingNews

টেলিগ্রাফ বাংলাদেশের ইউটিউব চ্যানেল

Close Welcome Bar