গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ভোরের প্রথম আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ার বিস্তীর্ণ বিলজুড়ে ফুটে উঠছে অসংখ্য লাল শাপলা। পানির গায়ে সূর্যের আলো পড়তেই একে একে খুলতে শুরু করে শাপলার কুঁড়ি, মুহূর্তেই বিলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে লাল রঙের এক উৎসব। এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন স্থানীয় মানুষসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা।
দর্শনার্থীদের অনেকে ভোরে নৌকায় ভেসে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এসব বিলে। চারপাশে কেবল শাপলার লালিমা, পাখির ডাক আর পানির মৃদু ঢেউ— যেন প্রকৃতির নিঃশব্দ অথচ মহিমান্বিত এক আয়োজন। ঢাকার পর্যটক আসলাম শেখ বলেন, “সূর্যের আলো ফুটতেই যখন একসঙ্গে এত শাপলা ফুটতে শুরু করল, মনে হলো প্রকৃতি আমার চোখের সামনে নতুন করে জন্ম নিচ্ছে।”
স্থানীয়দের ভাষায়, শাপলার আসল সৌন্দর্য দেখা যায় ভোরে। দুপুর নাগাদ অনেক ফুল বন্ধ হয়ে যায়, তাই সকালেই মানুষের ভিড় সবচেয়ে বেশি থাকে। স্থানীয় যুবকেরা নৌকা ভ্রমণের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন, ফলে দর্শনার্থীরা আরও কাছে থেকে উপভোগ করতে পারছেন শাপলার রাজ্য।
টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ার অন্তত ২৫টি বিল এখন লাল শাপলায় ভরা। সাধারণত এগুলো এক ফসলি জমি; বোরো মৌসুমের পর বর্ষায় জমে থাকা পানিতে প্রাকৃতিকভাবেই জন্ম নেয় এই শাপলা। কেউ এগুলো রোপণ করেন না—প্রকৃতিই জন্ম দেয় এই অপার সৌন্দর্যের ফুল।

ঢাকা, খুলনা, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন দর্শনার্থীরা ছুটে আসছেন এই বিলগুলোতে। কেউ সপরিবারে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে। প্রকৃতির এমন রঙিন উৎসব দেখতে এসে অনেকেই ছবি তুলছেন, কেউ আবার নিরবে তাকিয়ে থাকছেন শাপলার দিকে।
গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান জানান, শাপলার বিল ঘিরে পর্যটনবান্ধব পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ চলছে। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে এই সৌন্দর্য স্থায়ী নয়। পানি কমতে শুরু করলে কৃষকরা আবার ধান চাষে নামবেন, আর বিলজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে সোনালি ধানের রং। তাই লাল শাপলার এই অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করতে হলে এখনই যেতে হবে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়ার বিলে—যতদিন পানি থাকবে, ততদিন থাকবে এই লালিমায় মোড়া প্রকৃতি।