দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
মোঃ হেলাল উদ্দীন, নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি।
“মাঠ জুড়ে হলুদ ফুল, রোদে ভেজা দিন। মাটির বুকে স্বপ্ন ফেরে, কৃষকের চোখে নিন।”
এই ছন্দের মতোই বাস্তব চিত্র এখন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার কৃষকদের মাঠজুড়ে। শীতের নরম রোদে বিস্তীর্ণ ফসলি জমিন ঢেকে গেছে সরিষার হলুদ ফুলে। দিগন্তজোড়া মাঠে বাতাসে দুলছে সরিষা গাছ, ফুলের ফাঁকে ফাঁকে মৌমাছির গুঞ্জনে যেন নতুন প্রাণ পেয়েছে গোটা জনপদ। প্রকৃতির এই অপূর্ব দৃশ্যের সঙ্গে মিলেছে কৃষকের মুখে প্রশান্তির হাসি। এ শুধু সৌন্দর্যের গল্প নয়, বরং সম্ভাব্য লাভের আশাবাদ।
উপজেলায় সরিষার ফুলে ভরে উঠছে মাঠ। বরেন্দ্র অঞ্চল যেন রূপ নিয়েছে এক বিস্তীর্ণ হলুদ ক্যানভাসে। চারদিকে যতদূর চোখ যায়, শুধু সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে দোল খাওয়া সরিষার হলুদ ফুল। সকালের নরম রোদে ঝলমলে এই মাঠ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই নয়, বরং গ্রামীণ অর্থনীতির আশাবাদের কথাও জানান দিচ্ছে।
প্রকৃতির এই মায়ায় পড়ে প্রকৃতি পিয়াসীরা হলুদের রঙের সাথে নিজেদের মিলিয়ে ছবি তুলে স্মৃতির পাতায় রেখে দিতে যেন আকুল হয়ে উঠেছে।
বরেন্দ্র এলাকার কৃষকরা জানান, আমন ধান কাটার পর জমি ফাঁকা না রেখে সরিষা চাষ তাদের জন্য একটি লাভজনক বিকল্প ফসল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। স্বল্প খরচে কম সময়ের মধ্যে ফলন পাওয়া যায় বলে দিন দিন এই ফসলের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। এ বছর অনেক কৃষক উচ্চ ফলনশীল ও স্বল্প মেয়াদি জাতের সরিষা আবাদ করেছেন। তাদের আশা, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন যেমন ভালো হবে, তেমনি বাজারে ন্যায্যমূল্যও পাওয়া যাবে।
স্থানীয় কৃষক আক্তারুল বলেন, “এ বছর সরিষার গাছ খুব সুন্দর হয়েছে। সময়মতো বৃষ্টি ও রোদ পাওয়ায় ফুলও ভালো এসেছে। যদি শেষ পর্যন্ত কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসে, তাহলে ফলন ভালো হবে এবং আমরা ভালো দাম পাওয়ার আশা করছি।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সলেহ্ আকরাম বলেন, নাচোল উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ৬,৫০০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে কৃষকদের নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।