নজরুল ইসলাম, যশোর প্রতিনিধি
রবিবার (২৬ জুলাই, ২০২৬)
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
যশোর ও খুলনার ভবদহ অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে পানিসম্পদ মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি। শনিবার (২৫ জুলাই) যশোর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এতে ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতার কারণে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, যশোরের মনিরামপুর, কেশবপুর ও অভয়নগর এবং খুলনার ফুলতলা ও ডুমুরিয়া উপজেলার শতাধিক গ্রামের মানুষ বছরের পর বছর জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ায় কৃষি উৎপাদন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সংগ্রাম কমিটির অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে আমডাঙ্গা খাল পুনঃখনন, হরি নদী খনন এবং টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। অভয়নগর উপজেলার আমডাঙ্গা খাল সংস্কারের জন্য বরাদ্দ থাকলেও দুই বছরেও কাজ শেষ হয়নি। এছাড়া ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে হরি ও আপার ভদ্রা নদী খননের কাজ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।
জলাবদ্ধতার কারণে মানুষের জীবন এখন চরম মানবিক সংকটে পৌঁছেছে। কৃষিজমি বছরের পর বছর পানির নিচে থাকায় চাষাবাদ বন্ধ হয়ে গেছে। এমনকি মৃত ব্যক্তিকে কবর দেওয়া বা সৎকারের জন্য উঁচু বেদি তৈরি করতেও পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে, যা এই অসহায় মানুষের পক্ষে বহন করা অসম্ভব।
ভবদহ পানি নিষ্কাশন ও ভৈরব নদ সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম নেতা জিল্লুর রহমান ভিটু এ কথা বলেন। তিনি ভবদহবাসীকে এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দিতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংগ্রাম কমিটি অবিলম্বে আমডাঙ্গা খালের সংস্কার সম্পন্ন, খর্ণিয়া থেকে কুলবাড়িয়া পর্যন্ত নদীর অস্থায়ী বাঁধ অপসারণ, পলি অপসারণ এবং বিলভিত্তিক টিআরএম বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে। স্মারকলিপি প্রদানকালে ভবদহ পানি নিষ্কাশন ও ভৈরব নদ সংস্কার আন্দোলনের প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, তসলিমুর রহমান, অনিল বিশ্বাসসহ কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।