উপজেলা সংবাদদাতা
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর), ২০২৬
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘বিশ্বসেরা অভিনেত্রী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোলার লালমোহন উপজেলা নাগরিক সমাজের আয়োজনে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন বিশ্বসেরা অভিনেত্রী। গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের গণভবনে ডেকে সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি গুমের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘গুম হওয়া স্বজনদের গণভবনে ডেকে তাদের স্ত্রী-সন্তানদের মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিতেন শেখ হাসিনা। তাদের আশ্বস্ত করতেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে। অথচ তার ভেতরেই গুমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার হিংস্র মনোভাব লুকিয়ে ছিল।’
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুমের ঘটনায় সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের প্রসঙ্গ টেনে স্পিকার বলেন, ‘গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে এখন জনগণের কাছে অনেক কিছুই পরিষ্কার হয়েছে। শেখ হাসিনা বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী এবং গুমের নির্দেশদাতা ছিলেন।’
বিগত সরকারের বিরুদ্ধে লুটপাট ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে একটি বালিশের দাম ৬০ হাজার টাকা এবং একটি পর্দার দাম ৪২ হাজার টাকা ধরা হয়েছিল। তৎকালীন একজন ভূমি প্রতিমন্ত্রীর লন্ডনে ৩৬০টি বাড়ি রয়েছে। সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ না করে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।’
লালমোহনের স্থানীয় রাজনীতি প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, ‘বিগত সরকারের সময়ে এখানকার স্থানীয় এমপি ছিলেন একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ও খুনি। ২০১০ সালের উপনির্বাচনে ঢাকা থেকে সন্ত্রাসী এনে দিনদুপুরে আমার নেতাকর্মীদের রামদা দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। ভাঙচুর করা হয় বাড়িঘরও।’
মতবিনিময় সভার শেষ পর্যায়ে নিজের নির্বাচনি এলাকার মানুষের কাছে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালনে তারা সন্তুষ্ট কি না, তা জানতে চান মেজর (অব.) হাফিজ। সংসদীয় পদ্ধতির আদলে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মতামত জানতে ‘হ্যাঁ-না’ ভোট নেওয়া হয়। ভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের করতালির মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুলের সঞ্চালনায় সভায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।