জেলা প্রতিনিধি
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ২০২৬, বেলা ১১টা ৫০ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
কুমিল্লার মুরাদনগরে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে বড় বোন ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে আবু নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বাবুটিপাড়া ইউনিয়নের দড়ানীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর পলাতক রয়েছেন।
নিহতরা হলেন দড়ানীপাড়া গ্রামের জসীম উদ্দীনের স্ত্রী ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খালেদা আক্তার (৭০) এবং তার ভাই বাচ্চু মিয়ার ছেলে মঞ্জুরুল আলম ওরফে টিটু (৩৫)। প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশ জানায়, মোস্তাফিজুর একাই দা দিয়ে কুপিয়ে তাদের হত্যা করেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জমিজমা নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মোস্তাফিজুর তার বড় বোন খালেদা আক্তারকে দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করেন। খালেদা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে রক্ষা করতে ভাতিজা মঞ্জুরুল এগিয়ে আসেন। এ সময় মোস্তাফিজুর তাকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে তাদের উদ্ধার করে গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল মতিন বলেন, মোস্তাফিজুর রহমানের কারণেই পরিবারটিতে জমিজমা নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। তিনি স্থানীয় বিচার-সালিশও মানতেন না। আদালতে মামলা চলমান থাকার মধ্যেই এলাকাবাসী কয়েকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি।
বাবুটিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরমান হোসেন বলেন, পরিবারটিতে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। প্রায় তিন মাস আগে বিষয়টি তাদের কাছেও এসেছিল। তখন সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত বিরোধের মীমাংসা হয়নি।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে মোস্তাফিজুর একাই তার বোন ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, অভিযুক্তকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। নিহত দুই জনের লাশ গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে এবং মঙ্গলবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য তা কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় রাত ১০টা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।