নিজস্ব প্রতিবেদক
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১১টা ১১ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
যশোর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রণজিত কুমার রায়ের জব্দ করা সম্পদ থেকে আয়ের সিংহভাগ অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে ভারতে পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি সপরিবারে ভারতে অবস্থান করছেন। এদিকে তার সম্পদ দেখাশোনাকারী ব্যক্তিরা ভাড়া ও লভ্যাংশের টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিয়মিত হুন্ডির মাধ্যমে তার কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছেন বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, বাঘারপাড়ার খাজুরা বাজারে রণজিতের চারতলা ভবনের নিচতলায় কৃষি ব্যাংক, দোতলায় সোনালী ব্যাংক ও তৃতীয়তলায় কর্মসংস্থান ব্যাংক রয়েছে। এসব রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের ভাড়া অবরুদ্ধ ব্যাংক হিসাবে জমা হলেও মার্কেটের অন্যান্য জুয়েলারি দোকানের ভাড়া জমা হচ্ছে না। সোনালী ব্যাংকের খাজুরা শাখার ব্যবস্থাপক মোতাছিম বিল্লাহ বলেন, দুদকের মামলার কারণে ২০২৫ সাল থেকে ব্যাংকের ভাড়ার টাকা অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হয়। একই তথ্য জানান কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক পলাশ ঘোষ।
যশোর শহরের রেল রোডে রণজিতের দুটি ভবনের ভাড়া সংগ্রহ করেন দুর্গাপদ নামে এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, ভাড়া উত্তোলনের টাকা যথাস্থানে পাঠানো হয়। তবে কার কাছে বা কীভাবে পাঠানো হয়, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। এছাড়া বড় বাজারের লোহাপট্টি রোডের ভবন থেকে মইদুল নামে এক ব্যক্তি নিয়মিত টাকা সংগ্রহ করছেন বলে ব্যবসায়ীরা জানান।
অভিযোগ রয়েছে, এমপি থাকাকালীন রণজিত অবৈধভাবে বিপুল সম্পদ অর্জন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত ২০২৫ সালের মার্চে রণজিত, তার স্ত্রী নিয়তি রানী রায় ও দুই ছেলের চারটি ফ্ল্যাট, দুটি বাড়ি, ৬০টি দোকানসহ ৭৯ দশমিক ৬২ বিঘা জমি জব্দ এবং ১৩৭টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন।
রিসিভার নিয়োগের জটিলতা
আদালতের নির্দেশে সম্পদ জব্দ করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ‘রিসিভার’ নিয়োগ করা হয়নি। ফলে জব্দ করা সম্পত্তির আয় রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হচ্ছে না। এ বিষয়ে যশোর জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন বলেন, মামলাটি প্রধান কার্যালয় থেকে পরিচালিত হওয়ায় এ বিষয়ে হালনাগাদ তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে বাদী আদালতের মাধ্যমে রিসিভার নিয়োগ করাতে পারলে আসামির সমুদয় সম্পত্তি থেকে উপার্জিত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হতো।