নিউজ ডেস্ক
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর), ২০২৬ | রাত ৮:১৯
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সৌদি আরব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা পুরোপুরি বাতিল করেনি বলে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তথ্য উঠে এসেছে। এই প্রতিবেদন প্রকাশ্যে আসার পর রিয়াদের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, গত মাসে কংগ্রেসে পাঠানো কিছু গোপনীয় নথিতে এই গোয়েন্দা তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে প্রতিবেদনটি এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়।
যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে সৌদি আরবে পারমাণবিক এনার্জি প্রকল্প শুরুর অনুমতি দেওয়ার লক্ষ্যে প্রস্তাবিত চুক্তিটি বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেস পর্যালোচনা করছে। ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করে, এই অংশীদারিত্ব রিয়াদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক শক্তিশালী করবে এবং মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিপুল সুযোগ সৃষ্টি করবে। এছাড়া পারমাণবিক প্রযুক্তির জন্য সৌদি আরব যাতে রাশিয়া বা চীনের দিকে না ঝুঁকে, তা নিশ্চিত করাই এই চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর চুক্তিটির সমর্থনে যুক্তি দিয়ে জানায়, সৌদি আরবের কোনো পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিকে তারা সমর্থন করে না এবং ভবিষ্যতেও করবে না।
গোয়েন্দা মূল্যায়নের বিষয়ে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রশ্নের সরাসরি কোনো জবাব দেয়নি সৌদি সরকার। তবে তারা দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী আবদুল আজিজ বিন সালমানের একটি পূর্ববর্তী বক্তব্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচি হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। দায়িত্বশীলতা ও স্বচ্ছতার সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এবং দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চুক্তির প্রাথমিক শর্তানুসারে সৌদি আরব ৫ শতাংশের নিচে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে। তবে পৃথক চুক্তির মাধ্যমে পরবর্তীতে এই সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর অনুমতি দেওয়া হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অস্ত্র তৈরির উপযোগী মানের নিচে হলেও, এই মাত্রায় পৌঁছাতে পারলে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রয়োজনীয় সময় ও প্রযুক্তিগত কাঠামোর পথে অনেকটা এগিয়ে যাবে সৌদি আরব।