মাগুরা সংবাদদাতা।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক গ্রাহকের নামে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকার বিল দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
অস্বাভাবিক এই বিল পেয়ে বিস্মিত হয়েছেন গ্রাহক ও তার পরিবারের সদস্যরা। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায়ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনাটি মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর মাসের বিদ্যুৎ বিলে এই অস্বাভাবিক অঙ্ক দেখানো হয়েছে।
বিলের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ সেপ্টেম্বর মিটারের বর্তমান রিডিং ছিল ৩৯৫ ইউনিট। এর আগে, ৮ আগস্ট রিডিং ছিল ১৬০ ইউনিট। অর্থাৎ এক মাসে ওই গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ ২৩৫ ইউনিট।
তবে এই ব্যবহারের বিপরীতে বিলে ডিমান্ড চার্জ হিসেবে দেখানো হয়েছে ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট এবং ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ করে মোট বিল দাঁড়িয়েছে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।
বিলে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ মোট পরিমাণ দাঁড়াবে ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা।
অন্যদিকে, ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য প্রকৃত বিল হওয়ার কথা ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। বিলম্ব মাশুলসহ সেটি ২ হাজার ৫৬ টাকা হওয়ার কথা বলে বিলে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ১০ সেপ্টেম্বর বিলটি ইস্যু করা হয় এবং পরিশোধের শেষ তারিখ নির্ধারণ করা হয় ২৯ সেপ্টেম্বর। গ্রাহকের শ্রেণি হিসেবে বিলে ‘এলটি-এ (আবাসিক)’ উল্লেখ রয়েছে।
গ্রাহক মোছা. আলেয়া খাতুন বলেন, “এটা শুধু ভুতুড়ে বিল নয়, আজগুবিও। বিদ্যুৎ বিভাগের খামখেয়ালিপনার কারণে গ্রাহকের দুশ্চিন্তা ও ভোগান্তি বাড়ছে। এ ধরনের ভুলের প্রতিকার হওয়া জরুরি।”
তবে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম অস্বাভাবিক বিল দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রাহকের মিটার পরিবর্তনের সময় ভুলবশত মিটারের সিল নম্বরের ডিজিটগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হয়ে যায়। এ কারণেই অস্বাভাবিক অঙ্কের বিল তৈরি হয়েছে।
তিনি জানিয়েছেন, বিলটি দ্রুত সংশোধন করা হবে।