জেলা প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর, ২০২৬) রাত ৯টা
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
শতবছরের ঐতিহ্য ও খাঁটি ছানার স্বাদে সাতক্ষীরার মিষ্টি এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জায়গা করে নিয়েছে। কানাডা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নিয়মিত রপ্তানি হচ্ছে উপকূলীয় এই জেলার বিখ্যাত প্যাড়া সন্দেশ, ল্যাংচা ও কাঁচাগোল্লা।
ব্রিটিশ আমলে হাজারি ময়রার হাত ধরে সাতক্ষীরার মিষ্টি শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে সুশীল ময়রা, কেষ্ট ময়রা ও ফকির ময়রার হাত ধরে এই শিল্প অনন্য উচ্চতায় পৌঁছায়। বিশেষ করে ফকির ময়রার উদ্ভাবিত ‘প্যাড়া সন্দেশ’ বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পায়। জেলার উদ্বৃত্ত দুধ ও উন্নত ফ্যাটের কারণে এখানকার মিষ্টির স্বাদ অতুলনীয় বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলায় দুই লাখ ৮৭ হাজার ৫৪১.১৩ মেট্রিক টন দুধ উৎপাদিত হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। এই বিপুল পরিমাণ দুধ ও উন্নত মানের ছানা মিষ্টি শিল্পের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
সাধারণ মিষ্টির মেয়াদ কম হলেও নলেন গুড়ের প্যাড়া সন্দেশ সাধারণ তাপমাত্রায় ১০-১৫ দিন এবং ফ্রিজে দীর্ঘসময় ভালো থাকে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ২০২২ সাল থেকে প্রতি বছর গড়ে প্রায় এক টন মিষ্টি মাইনাস ৪০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ফ্রোজেন করে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর হয়ে কানাডায় পাঠানো হচ্ছে।
সাগর সুইটস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেহেদী হাসান তাজ বলেন, “নলেন গুড়ের বিশেষ ফ্লেভারের কারণে আমাদের এই মিষ্টি আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক জনপ্রিয়। এটি সাতক্ষীরার জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার দাবি রাখে। আমরা ফ্রোজেন আইটেমের জন্য জেলাভিত্তিক প্রসেসিং ইউনিট ও সহজ রপ্তানি মাধ্যম চালুর দাবি জানাচ্ছি।”
ঐতিহ্যের ইতিহাস ও বর্তমান সংকট
প্রবীণ সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি জানান, ব্রিটিশ আমলে হাজারি ময়রার তৈরি মিষ্টি ইংল্যান্ড পর্যন্ত যেত। সেই ঐতিহ্য আজও ধরে রেখেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। তবে বর্তমানে মিষ্টি শিল্পে ব্যাংক ঋণ বা সরকারি সহায়তার অভাব রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি শাহ আলম বলেন, “উৎপাদনের দিক দিয়ে দুগ্ধ খাতে সাতক্ষীরা দেশে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মিষ্টি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়। আমাদের দাবি, এখানকার ঐতিহ্যবাহী প্যাড়া সন্দেশকে দ্রুত জিআই স্বীকৃতি দেওয়া হোক।”
সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এফ এম মান্নান কবির বলেন, “চাহিদার তুলনায় দুধ উদ্বৃত্ত থাকায় এবং গুণগতমান ভালো হওয়ায় সাতক্ষীরার মিষ্টির সুনাম আজ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।”