প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি
শুক্রবার (১৪ আগস্ট ২০২৬), রাত ৯টা ১১ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
আধুনিক প্রযুক্তি ও নিয়মিত অভিযানের ফলে সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগে হরিণ শিকার এবং বিষ দিয়ে মাছ ধরার মতো অপরাধ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, স্মার্ট পেট্রোলিং ও ড্রোন নজরদারির মাধ্যমে বন অপরাধীদের তৎপরতা বর্তমানে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
চলতি বছরের জুন থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত পূর্ব সুন্দরবন বিভাগে ৩ হাজার ২১৪টি অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে ১৩টি নৌকা, ছয়টি মাছ ধরার জাল ও বিপুল পরিমাণ বিষ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ১৫১.৫০ কেজি বিষযুক্ত চিংড়ি ও পাঁচ কেজি শুঁটকি মাছ জব্দ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় চারটি ইউডিওআর মামলা দায়ের করা হয়েছে।
হরিণ শিকারের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৯ জন শিকারিকে গ্রেপ্তার ও ছয়টি মামলা করা হয়েছে। এ সময়ে কোনো হরিণের মাংস বা চামড়া উদ্ধার না হলেও বন থেকে ১৪ হাজার ৩৮১ ফুট মালা ফাঁদসহ বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ জব্দ করা হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর অপরাধের হার বেশ কম বলে বন বিভাগ জানিয়েছে।
সুন্দরবন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মনিরুজ্জামান নাসিম আলী বলেন, “পূর্ব সুন্দরবনে দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক নজরদারির ফলে বন অপরাধ কমেছে। তবে এ সাফল্য ধরে রাখতে জনবল বাড়ানো, দ্রুতগতির নৌযান ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়ানো জরুরি।”
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, “বন রক্ষায় নিয়মিত ফুট পেট্রোলিং, স্মার্ট পেট্রোলিং, বোট পেট্রোলিং এবং ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে। এর ফলে হরিণ শিকারি ও বিষ প্রয়োগকারী চক্রের তৎপরতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বন অপরাধের এই নিম্নমুখী ধারা ধরে রাখতে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে আরও কঠোর অভিযান চালানো হবে।”