নিজস্ব প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলা, আগাম সতর্কবার্তা প্রচার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কার্যকর সাড়া প্রদানে নারীদের নেতৃত্ব ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দুই দিনব্যাপী ‘নারী নেতৃত্বের মাধ্যমে দুর্যোগে সাড়া প্রদান বিষয়ক রিফ্রেশার্স প্রশিক্ষণ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবি ও সোমবার (১৮ ও ১৯ অক্টোবর) উপজেলার রমজাননগরে অবস্থিত প্রগতি সেবা কেন্দ্রে একশনএইড বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ান এইডের সহায়তায় বাস্তবায়িত প্রগতি প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণে রমজাননগর ইউনিয়নের ২৫ জন নারী অংশগ্রহণ করেন, যাঁদের মধ্যে ২ জন প্রতিবন্ধী নারী ছিলেন।
প্রশিক্ষণে দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি, আগাম সতর্কবার্তা প্রচার, জরুরি পরিস্থিতিতে সাড়াদান, উদ্ধার কার্যক্রম, নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিতকরণ এবং দুর্যোগকালীন সময়ে নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুরক্ষা ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক ও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিরাজ হোসেন খান, উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের স্টেশন অফিসার আলী আকবর, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) উপজেলা টিম লিডার মাকছুদুর রহমান মুকুল এবং উপজেলা প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক অনাথ মণ্ডল। এছাড়া একশনএইড বাংলাদেশের প্রগতি প্রকল্পের হাব কো-অর্ডিনেটর আছের আলী, ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর আদনান জেব ও খাদিজা পারভীন উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: মিরাজ হোসেন খান বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রস্তুতি ও সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নারীরা দুর্যোগের আগাম সতর্কবার্তা প্রচার, পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদারে সহায়ক হবে।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী জেসমিন নাহার বলেন, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দুর্যোগের আগে কীভাবে প্রস্তুতি নিতে হয়, আগাম সতর্কবার্তা পেলে কী করতে হয় এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কীভাবে অন্যদের সহযোগিতা করতে হয়, সে বিষয়ে আমরা গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পেয়েছি। একশনএইড বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ান এইডের সহায়তায় এ ধরনের প্রশিক্ষণে অংশ নিতে পেরে আমরা উপকৃত হয়েছি। অর্জিত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে নিজেদের পরিবার ও এলাকার মানুষকে সচেতন করতে এবং দুর্যোগের সময় সাহসের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারব বলে আশা করি।
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের নেতৃত্বের দক্ষতা, দুর্যোগকালীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রস্তুতি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নারী ও প্রতিবন্ধী নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
একশনএইড বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ান এইডের সহায়তায় বাস্তবায়িত প্রগতি প্রকল্প স্থানীয় পর্যায়ে নারীর ক্ষমতায়ন, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক দুর্যোগ প্রস্তুতি ও সাড়াদান ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে কাজ করছে। এ ধরনের উদ্যোগ দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস এবং নিরাপদ ও সহনশীল জনগোষ্ঠী গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।