নিউজ ডেস্ক
১১ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯টা ৬ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের আগে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক প্রস্তুতির জন্য আরও সময় চায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এছাড়া আসন্ন দুর্গাপূজায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা ও মণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অচলাবস্থা কাটিয়ে কাঠামোকে কার্যকর করতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। তারা মনে করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। দলীয় প্রতীক না থাকায় একই পদে একাধিক প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে কোন্দল সৃষ্টি করতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সম্ভাব্য বিরোধগুলো আলোচনার মাধ্যমে মীমাংসার নির্দেশনা দিয়েছেন তারেক রহমান।
নির্বাচন কমিশনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার বিষয়টি আলোচনায় উঠলে কয়েকজন সদস্য বলেন, নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) সরকার এখন পর্যন্ত কোনো দায়িত্ব প্রদান করেনি। তাই তাদের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার এখতিয়ার নেই। তবে প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের পক্ষেও মত দেন কেউ কেউ।
পূজার নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নেতারা জানান, কোনো গোষ্ঠী যাতে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় করে মন্দিরভিত্তিক কমিটি গঠনের মাধ্যমে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে সারা দেশের পূজামণ্ডপগুলোতে স্থানীয় পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে বিএনপির নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাসেবকের ভূমিকা পালন করবেন। আমরা এ বিষয়ে অত্যন্ত কনসার্ন এবং প্রত্যেকে সজাগ আছি।”
তিনি আরও বলেন, “নানাভাবে দেশের বিরুদ্ধে ও গণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। সব ধরনের অপপ্রচার ও অপকীর্তি সরকার দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রতিহত করতে সক্ষম হবে এবং আমাদের নেতাকর্মীরা এ বিষয়ে ঘুমহীন প্রহরীর মতো কাজ করবেন।”
বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আমান উল্লাহ আমান, অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার ও ইসমাইল জবিউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।