নিউজ ডেস্ক
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ২০২৬, বেলা ১১টা ৫০ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
কানাডার আলবার্টা প্রদেশের ওয়েনরাইট সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চার সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত ৩৯ জন আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ১৯ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। স্থানীয় সময় শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে কানাডিয়ান ফোর্সেস বেস ওয়েনরাইটে আগুনের সূত্রপাত হয়।
নিহত সেনাসদস্যরা হলেন সার্জেন্ট মরগান ওং, প্রাইভেট শন ফ্যারেল, প্রাইভেট এইডান গোল্ডিং ও প্রাইভেট হেইডেন লাইকেমার। ঘটনার সময় ঘাঁটির একটি প্রশিক্ষণ এলাকায় সেনাসদস্যরা জীবন্ত গোলাবারুদ ব্যবহার করে যুদ্ধের মহড়া চালাচ্ছিলেন। কাছাকাছি ঘাসে আগুন লাগার পর অস্বাভাবিক শক্তিশালী বাতাসে তা দ্রুত প্রশিক্ষণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি রোববার (১৮ অক্টোবর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ঘটনাটিকে শান্তিকালীন সময়ে কানাডার সামরিক বাহিনীর জন্য অন্যতম ভয়াবহ ট্র্যাজেডি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “এটি আমাদের বাহিনীর জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।”
আহতদের মধ্যে রিজার্ভ সেনাসদস্য এবং প্রিন্সেস প্যাট্রিশিয়া’স কানাডিয়ান লাইট ইনফ্যান্ট্রির সদস্যরা রয়েছেন। আহতদের চিকিৎসায় আলবার্টার বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্স, হেলিকপ্টার ও উড়োজাহাজ পাঠানো হয়। ওয়েনরাইটের স্থানীয় হাসপাতালগুলোর ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হওয়ায় অনেককে এডমন্টনসহ প্রদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
তদন্ত ও প্রেক্ষাপট
কানাডার সামরিক বাহিনী জানায়, প্রাথমিক তদন্তে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা বাইরে থেকে কোনো হস্তক্ষেপের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তেল-গ্যাস অবকাঠামোর সংশ্লিষ্টতাও নাকচ করেছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে।
এডমন্টন থেকে প্রায় ২১০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত ওয়েনরাইট কানাডার অন্যতম প্রধান সামরিক প্রশিক্ষণ ঘাঁটি। সেখানে কানাডা ও মিত্র দেশগুলোর সেনাসদস্যরা নিয়মিত সরাসরি গোলাবারুদ ব্যবহার করে প্রশিক্ষণ নেন। সাধারণ দিনে ঘাঁটিতে প্রায় ৬৯০ জন সামরিক সদস্য ও ৩০০ জন বেসামরিক কর্মী অবস্থান করেন।