নিউজ ডেস্ক
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর), রাত ৮টা ৩১ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ভারত থেকে সরকারিভাবে (জিটুজি) আমদানি করা চালের একটি বড় চালানে বিষাক্ত ও ক্ষতিকর উপাদান ‘আফলাটক্সিন’ শনাক্ত হয়েছে। চট্টগ্রামের হালিশহর কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদামের (সিএসডি) ১৩৫ টন চালে এই বিষাক্ত উপাদানের অস্তিত্ব পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
হালিশহর সিএসডির ব্যবস্থাপক ইকবাল মাহমুদ জানান, ভারত থেকে আমদানি করা ১৩৫ টন চালে আফলাটক্সিনের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। অধিকতর পরীক্ষার জন্য চালের নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।
খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, এমভি এইচটি পাইওনিয়ার জাহাজে করে আসা এই চালগুলো গত ২১ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। প্রাথমিক পরীক্ষায় খাবার উপযোগী প্রতিবেদন পাওয়ার পর ২৪ ও ২৫ জুলাই চালগুলো খালাস করে ঢাকার তেজগাঁও, চট্টগ্রামের হালিশহর ও দেওয়ানহাট সিএসডি এবং গাজীপুরের জয়দেবপুর এলএসডিতে পাঠানো হয়। তবে গুদামে পৌঁছানোর পর চালের মান নিয়ে কর্মকর্তাদের আপত্তির মুখে বিতরণ কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।
পরবর্তীতে গত ১৭ আগস্ট গাজীপুরের ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের শস্যমান ও পুষ্টি বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শরীফা সুলতানা দীপ্তির নেতৃত্বে একটি দল চট্টগ্রামে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে। পরীক্ষায় হালিশহর সিএসডির ১৩৫ টন চালে আফলাটক্সিনের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জসিম উদ্দিন খানের নির্দেশে সাড়ে ৯ হাজার টন চালের বিতরণ স্থগিত রেখে এই মান পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
আফলাটক্সিনের স্বাস্থ্যঝুঁকি
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যে আফলাটক্সিনের উপস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এটি অ্যাসপারজিলাস গোত্রের ছত্রাক থেকে তৈরি এক ধরনের বিষাক্ত উপাদান, যা আর্দ্র পরিবেশে শস্য বা চালে জন্ম নিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এই চাল খেলে মানুষের লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ছাড়াও লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগের চলাচল ও সংরক্ষণ শাখার নিয়ন্ত্রক রেজোয়ান সাকিব বলেন, “হালিশহর সিএসডির চালে আফলাটক্সিনের অস্তিত্ব পাওয়ার বিষয়টি জেনেছি। এ কারণে অধিকতর পরীক্ষার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।”