বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে। যদিও আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসন্ন জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হচ্ছে না, তবে ভবিষ্যতের নির্বাচন—বিশেষ করে চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন—এই ব্যবস্থার অধীনে হতে পারে।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
দীর্ঘদিন তত্ত্বাবধায়ক সরকার দাবিতে আন্দোলনকারী বিএনপি, জামায়াতসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক দল রিভিউ আবেদনে এখন “ভবিষ্যতের জন্য” তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এই পরিবর্তিত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নজরুল ও আইন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, দলগুলো এখন আর তাৎক্ষণিক তত্ত্বাবধায়ক চাইছে না বলেই আদালত রায়ে এটিকে ভবিষ্যতের জন্য কার্যকর করার কথা উল্লেখ করেছেন।
বিএনপি আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্বে থাকায় বর্তমান পরিস্থিতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের সুযোগ নেই। তিনি ১৯৯১ সালের বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদের অধীনে আয়োজিত নির্বাচনকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, তখনও আনুষ্ঠানিক তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা না থাকলেও নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
জামায়াতের আইনজীবী শিশির মনির বলেন, আপিল বিভাগ রায়ে স্পষ্ট করেছে যে সিদ্ধান্তটি শুধুই ভবিষ্যতের জন্য এবং বর্তমান সরকারের বিষয়ে কোন বিতর্ক তৈরি করার সুযোগ নেই। একই মত দেন রিভিউ আবেদনকারী আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়াও।
তবে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরশেদ মনে করেন, দলগুলো নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসায় আদালতও যুক্তিতর্কের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতের জন্য রায় দিয়েছেন।
এদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান এই রায়কে “যুগান্তকারী” হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, পরবর্তী সংসদ ভেঙে যাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যেই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা কার্যকর হবে। তার দাবি, বিচারপতি খায়রুল হকের আগে দেওয়া রায়টি ত্রুটিপূর্ণ ছিল এবং দণ্ডবিধির ২১৯ ধারায় অপরাধেরও ইঙ্গিত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সাংবিধানিক বলে প্রতিষ্ঠিত হলো এবং ভবিষ্যতে এই রায়ের রিভিউয়ের সুযোগ নেই। পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল ইস্যুর সঙ্গে এর কোনো সংঘর্ষ নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।