টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ডেস্ক।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এখনো গভীর উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। হৃদ্যন্ত্র, লিভার, কিডনি ও ফুসফুসের জটিলতা কাটতে না থাকায় তাঁর অবস্থা গত কয়েক দিন ধরে ওঠানামা করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা। তাদের ভাষ্য, চিকিৎসার ফলে কোনো একটি অঙ্গে সামান্য উন্নতি হলেও অন্য অঙ্গে দ্রুত অবনতি দেখা দিচ্ছে। তবে তারা এখনো আশাবাদী যে খালেদা জিয়া চিকিৎসা সঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারছেন এবং ওষুধগুলো কার্যকর হচ্ছে।
চলমান পরিস্থিতিতে তাঁকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ ঘোষণা করে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স—এসএসএফ গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এভারকেয়ার হাসপাতালে তাঁর নিরাপত্তা দায়িত্ব গ্রহণ করে। একই দিন সন্ধ্যায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধান হাসপাতালে গিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।
চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস হাসপাতাল ও লন্ডন ক্লিনিকের চিকিৎসকদের সমন্বিত মেডিকেল বোর্ড। এরই মধ্যে যুক্তরাজ্য থেকে একটি বিশেষজ্ঞ দল আজ সকালে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে, যা খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে চিকিৎসা–সংক্রান্ত পরামর্শ দেবে। বিকেলে চীন থেকেও আরেকটি দল ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। চীনের পাঁচ সদস্যের একটি অগ্রবর্তী দল ইতিমধ্যে হাসপাতালে উপস্থিত হয়েছে। দুই দেশের বিশেষজ্ঞ মতামতের ওপর নির্ভর করেই সিদ্ধান্ত হবে—তাঁর চিকিৎসা ঢাকায় চলবে, নাকি তাঁকে লন্ডনে নেওয়া হবে।
বিএনপি ও পরিবারসূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, কাতার, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও ভারত খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় সহায়তা দিচ্ছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন এবং আগের মতো ওষুধের প্রতিক্রিয়াও পাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণ নিয়ে যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান।
জাহিদ হোসেন আরও জানান, দেশের বাইরে নেওয়ার সব প্রস্তুতি থাকলেও এ মুহূর্তে তাঁর শারীরিক অবস্থার কারণে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ। তাই মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত ছাড়া অন্য কিছু করার সুযোগ নেই।
এদিকে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রতিদিনই হাসপাতালের সামনে অবস্থান করছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল তাঁকে অশ্রুসিক্ত চোখে হাসপাতাল থেকে বের হতে দেখা যায়। দলের অন্যান্য নেতারাও হাসপাতালে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এদিন রুহুল কবির রিজভী, রফিকুল ইসলাম, রেজাউল করিম ও গোলাম আকবর খন্দকারসহ বহু নেতা হাসপাতালে গিয়ে তাঁর চিকিৎসার খোঁজ নেন।
হাসপাতালের সামনে প্রতিদিনই বিএনপির নেতা–কর্মী ও সাধারণ মানুষের সমাগম বাড়ছে। গণমাধ্যমেরও ভিড় বাড়ায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে ভিড় না করার আহ্বান জানানো হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।
গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে আনা হয়। ফুসফুসে সংক্রমণ শনাক্ত হলে তাঁকে ভর্তি করা হয়। রোববার ভোরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে তিনি এখনো নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন।