টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ডেস্ক।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে বারবার ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) ভোরের আলো ফোটার পরপরই ৪.১ মাত্রার একটি হালকা ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ৩৮ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে নরসিংদীর শিবপুরে।
এ নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহে কয়েকবার ভূমিকম্প অনুভূত হলো, যার মধ্যে ২১ নভেম্বরের ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে তিন জেলায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু এবং ছয় শতাধিক মানুষ আহত হন। সেই প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলও ছিল নরসিংদীর মাধবদীতে। গত ২৭ নভেম্বরও নরসিংদীর ঘোড়াশাল থেকে ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা দেশের এই বারবার কম্পনকে বড় ধরনের ভূমিকম্পের পূর্বাভাসের লক্ষণ বা ‘ফোরশক’ হিসেবে দেখছেন। বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী ২১ নভেম্বরের ভূমিকম্পকে বড় ভূমিকম্পের আগে ছোট ছোট কম্পনগুলোর একটি বলে অভিহিত করেছেন।
ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার মনে করেন, “বড় ধরনের একটি ভূমিকম্পের বিপদ বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে,” এবং প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার অভাবে ঝুঁকি বিপজ্জনক মাত্রায় পৌঁছেছে। তিনি ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সরকারের কাছে দ্রুত স্বল্পমেয়াদী, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন।
এদিকে, জনমনে সৃষ্ট আতঙ্কের প্রেক্ষিতে গত ২৪ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠক ডাকেন। সেই বৈঠকে ভূমিকম্প মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিতে একটি টাস্কফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।