জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রাজধানীর মিন্টো রোডের মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। আজ রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ধানমণ্ডি ২ নম্বর এলাকার একটি ব্যায়ামাগার (জিম) থেকে তাকে ডিবির একটি দল নিয়ে আসে। রাত আটটার দিকে তাকে ডিবি কার্যালয়ে পৌঁছানো হয় বলে নিশ্চিত করেছেন আনিস আলমগীর নিজেই।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডিবি প্রধান তাঁর সঙ্গে ‘কিছু বিষয়ে’ কথা বলবেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোঃ শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘‘জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাঁর ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’ তবে তাঁকে কোনো নির্দিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখন পর্যন্ত পরিষ্কার করে কিছু জানায়নি।
আনিস আলমগীর ডিবি কার্যালয় থেকে মুঠোফোনে গণমাধ্যমকে জানান, জিম থেকে বের হওয়ার পরই তাকে নিয়ে আসা হয়। তিনি বলেন, ‘‘কেন আনা হয়েছে তা আমাকে জানানো হয়নি, শুধু বলা হয়েছে ডিবি প্রধান কথা বলবেন।’’ এদিকে ব্যায়ামাগারের ম্যানেজার আরেফিন জানান, আনিস আলমগীর ব্যায়াম শেষ করে রাত আটটার দিকে বের হয়ে যান, তবে সেখানে পুলিশের কোনো উপস্থিতি তিনি লক্ষ্য করেননি।
প্রতিক্রিয়া ও ধোঁয়াশা: সাংবাদিক আনিস আলমগীরের এই হঠাৎ ‘হেফাজত’ নিয়ে সাংবাদিক সমাজে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। গত কিছুদিন ধরে বিভিন্ন টেলিভিশন টকশো এবং লেখায় সরকারের নানা কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি আলোচনায় ছিলেন। এদিকে, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সভাপতি খোমেনি এহসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে আনিস আলমগীরকে কেবল জিজ্ঞাসাবাদ নয়, বরং সরাসরি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, সাংবাদিক আনিস আলমগীর এর আগে ইরাক যুদ্ধের মাঠ থেকে রিপোর্ট করে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন। জ্যেষ্ঠ এই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রেস রিলিজের অপেক্ষা করা হচ্ছে।