টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ডেস্ক।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশে আনা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তার মরদেহ সরাসরি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আনা মরদেহটি শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকায় পৌঁছায়। বিমানবন্দর থেকে ৮ নম্বর গেট, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ফার্মগেট ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ হয়ে মরদেহ বহন করা হয়।
মরদেহ দেশে পৌঁছানোকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দরসহ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বিমানবন্দরের বাইরে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
একই সঙ্গে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিমানবন্দর এলাকা, কারওয়ান বাজার, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, যমুনা ও আশপাশের এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাহিনীটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম।
এর আগে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে জানানো হয়েছিল, বিমানবন্দর থেকে ওসমান হাদির মরদেহ সরাসরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নেওয়া হবে এবং সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ থাকবে। তবে শেষ পর্যন্ত মরদেহ জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে নেওয়া হয়।
ইনকিলাব মঞ্চ জানিয়েছে, শনিবার (২০ ডিসেম্বর) জোহরের নামাজের পর রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে শরিফ ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
শরিফ ওসমান হাদি গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন। মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি তাকে গুলি করলে রিকশায় থাকা অবস্থায় তার মাথায় গুলি লাগে।
প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারিভাবে তাকে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়।
সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তিনি মারা যান। তার মৃত্যুর পর হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে দেশজুড়ে ক্ষোভ ও প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে।