|যশোর প্রতিনিধি|
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যশোরের ছয়টি নির্বাচনী আসনেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। জেলার প্রায় ২৫ লাখ ভোটারের মন জয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী মাঠে সক্রিয় থাকলেও, যশোরের ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতেই প্রার্থী পরিবর্তন নিয়ে খোদ বিএনপির ভেতরেই চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, একক প্রার্থী নিয়ে নির্বাচনী মাঠে অনেকটা নির্ভার অবস্থানে রয়েছে জামায়াত। আওয়ামী লীগ মাঠে না থাকায় জেলার অধিকাংশ আসনেই এখন মূল লড়াইয়ের আভাস মিলছে বিএনপি বনাম জামায়াতের।
এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য মফিকুল হাসান তৃপ্তি। তবে মনোনয়নবঞ্চিত স্থানীয় তিন শীর্ষ নেতা—আবুল হাসান জহির, নূরুজ্জামান লিটন ও খায়রুজ্জামান মধুর অনুসারীরা ক্ষুব্ধ। উপজেলা বিএনপির ৮৯ জন নেতা কেন্দ্রীয় কমান্ডের কাছে লিখিতভাবে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন। এর বিপরীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আজীজুর রহমান একক প্রার্থী হিসেবে প্রচারণায় অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন। ৩ লাখ ৭ হাজার ৮৯৫ ভোটারের এই আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল না মিটলে লড়াই কঠিন হবে।
বিএনপির সাবিরা সুলতানাকে মনোনয়ন দেওয়ায় এখানেও প্রার্থী পুনর্বিবেচনার দাবি তুলেছেন স্থানীয় ৫২ জন নেতা। তাদের অভিযোগ, সাংগঠনিক দক্ষতার চেয়ে সহানুভূতির ভিত্তিতে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াত এখানে লন্ডন প্রবাসী চিকিৎসক ডা. মোসলেহ উদ্দীন ফরিদকে প্রার্থী করে চমক দিয়েছে। স্থানীয় ৪ লাখ ৭৮ হাজার ৭২৩ ভোটারের মধ্যে নতুন মুখ ও চিকিৎসকের ভাবমূর্তি নিয়ে ফরিদের অবস্থান বেশ শক্তিশালী।
যশোরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে বিএনপির একক প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। দলের ভেতরে কোনো কোন্দল নেই, বরং রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় থাকা এবং তৃণমূলকে উজ্জ্বীবিত রাখায় অমিতের পক্ষে গণজোয়ার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখানে জামায়াতের প্রার্থী রাবি ভিপি আবদুল কাদের ভোটারদের কাছে তুলনামূলক নতুন। ৬ লাখ ৪১ হাজার ৬৬৮ ভোটারের এই আসনে অমিতের পারিবারিক ঐতিহ্য তাকে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে।
এখানে বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার টি.এস. আইয়ুব। তবে স্থানীয় সভাপতি ফারাজী মতিয়ার রহমান ও যুবদল নেতা সোহাগের অনুসারীদের বিরোধিতার কারণে এখানে দলীয় কোন্দল চরম পর্যায়ে। ৫ লাখ ২০ হাজার ৬৯০ ভোটারের এই আসনে জামায়াতের জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল সুসংগঠিতভাবে প্রচার চালাচ্ছেন।
দীর্ঘ টানাপোড়েন শেষে উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবালকে মনোনয়ন দেওয়ায় এখানে বিএনপির নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। তবে জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক এরই মধ্যে সাধারণ ভোটার ও বিশেষ করে সনাতন সম্প্রদায়ের মাঝে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। ৪ লাখ ১০ হাজার ৭৮৬ ভোটারের এই আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণের মনোনয়ন নিয়ে কেশবপুরে তোলপাড় চলছে। তাঁর পরিবারের আওয়ামী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে দলের একটি অংশ চরম অসন্তুষ্ট। স্থানীয় ১০০ জন নেতা দীর্ঘদিনের কাণ্ডারি আবুল হোসেন আজাদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রার্থী বদলের আবেদন জানিয়েছেন। এখানে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যাপক মোক্তার আলী তাঁর পরিচ্ছন্ন ও শিক্ষাবান্ধব ভাবমূর্তি নিয়ে ভোটারদের নজর কাড়ছেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, “মনোনয়ন নিয়ে কিছু ক্ষোভ থাকা স্বাভাবিক। তবে চূড়ান্তভাবে সবাই ধানের শীষের পক্ষেই কাজ করবে।” অন্যদিকে, জামায়াতের জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, “সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমরা একাধিক আসনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।”
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম রাকিব জানান, জেলায় নতুন যুক্ত হওয়া ১ লাখ ৪৭ হাজার ভোটারসহ বর্তমানে মোট ভোটার সংখ্যা ২৪ লাখ ৮৬ হাজার ৩৩৩ জন। ৮২৪টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের সকল প্রস্তুতি চলছে।