ডেস্ক নিউজ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সরকারি চাকরি থেকে অবসরের তিন বছর পার না হওয়া পর্যন্ত কোনো কর্মকর্তা সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না বলে রায় দিয়েছেন বাংলাদেশের হাইকোর্ট। সরকারি কর্মকর্তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান এই আইনি বিধিনিষেধকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা কয়েকটি রিট আবেদন খারিজ করে আদালত বুধবার এই সিদ্ধান্ত জানান।
বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে সামরিক ও বেসামরিক সরকারি কর্মকর্তাদের অবসরের পরপরই সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া বা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পথে আইনি বাধা বহাল রইল।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও প্রেক্ষাপট এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার বিধান কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে দায়ের করা চারটি পৃথক রিট আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে বুধবার চূড়ান্ত রায় দেওয়া হয়।
মূলত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) বলা আছে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর তিন বছর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। এই বিধানটিকেই রিট আবেদনকারীরা অসাংবিধানিক বলে দাবি করেছিলেন।
রিট আবেদনকারীদের যুক্তি আদালতে রিটকারীদের পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয় যে, নির্বাচনে অংশ নেওয়া নাগরিকের একটি মৌলিক অধিকার। সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে অবসরের পর নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এই অধিকার স্থগিত রাখা সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ‘আইনের দৃষ্টিতে সমতা’ এবং সমঅধিকারের পরিপন্থী।
তবে শুনানি শেষে আদালত রিটকারীদের এই যুক্তি গ্রহণ না করে আবেদনগুলো খারিজ করে দেন। এর আগে গত ২৯ নভেম্বর এই মামলার শুনানি শেষ হয়েছিল এবং আদালত রায় দেওয়ার জন্য যেকোনো দিন সময় নির্ধারণ করেছিলেন।