বাংলাদেশে ৭১ জন ব্যক্তির মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেওয়া স্বীকৃতি ও সনদ বাতিল করেছে সরকার। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে তারা প্রকৃতপক্ষে মুক্তিযোদ্ধা নন বলে প্রমাণিত হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গত ২৪ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত একটি সরকারি গেজেট প্রকাশ করেছে।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)-এর ১০১তম সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গেজেট বাতিল করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন, ২০২২’-এর ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়েছে।
তালিকায় কারা আছেন? বাতিল হওয়া ৭১ জনের তালিকায় শুধুমাত্র বেসামরিক নাগরিকই নন, বরং বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য ও বিশেষ তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। গেজেট অনুযায়ী, এই তালিকায় ভারতীয় তালিকাভুক্ত ব্যক্তি ও ‘লালমুক্তিবার্তা’র নাম থাকা ব্যক্তি ছাড়াও আনসার, সেনাবাহিনী ও শহীদ পুলিশ বাহিনীর নামে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত বেশ কয়েকজনের নাম রয়েছে।
জামুকা সূত্রে জানা গেছে, এই ব্যক্তিরা প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা না হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন সময়ে নিজেদের নামে মুক্তিযোদ্ধার সনদ সংগ্রহ করেছিলেন। দীর্ঘ তদন্ত ও নথিপত্র যাচাই শেষে তাদের দাবি অবৈধ প্রমাণিত হয়েছে।
যাচাই-বাছাই অব্যাহত থাকবে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’ এবং ২০২২ সালের নতুন আইনের অধীনে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মূলত প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতেই এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় আরও স্পষ্ট করেছে যে, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করার জন্য এই যাচাই-বাছাই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি কেউ যদি ভবিষ্যতে মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি নেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে ভুয়াদের নাম বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন সাধারণ মুক্তিযোদ্ধারা। সরকারের এই সর্বশেষ পদক্ষেপকে সেই প্রক্রিয়ারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।