ওয়াহেদুল করিম,পঞ্চগড় প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ে আবারও মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত জেলার অধিকাংশ এলাকা ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন থাকলেও সূর্য ওঠার পর ঝলমলে রোদের দেখা মিলছে। তবে শীতের তীব্রতা কমেনি। কনকনে ঠাণ্ডা বাতাসের কারণে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৪ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওই দিন বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৪ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার। একই দিনে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
টানা কয়েক দিনের শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, রিকশা ও ভ্যানচালক, কৃষিশ্রমিকসহ নিম্ন আয়ের মানুষ। কুয়াশার কারণে সকাল বেলায় অনেকেই কাজে বের হতে পারছেন না। ফলে আয়-রোজগারে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। শীতের প্রকোপে শিশু ও বয়স্করা নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
সকালের দিকে সড়ক ও মহাসড়কে ঘন কুয়াশার কারণে যানবাহন চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় ধীরগতিতে চলাচল করছে যানবাহন। এতে যাত্রীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ভোগান্তি। বিভিন্ন এলাকায় শীত নিবারণের জন্য মানুষকে খড়কুটো, শুকনো পাতা ও কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি শীত মৌসুমে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল গত ১১ ডিসেম্বর। সেদিন তাপমাত্রা নেমে আসে ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা এ মৌসুমের সর্বনিম্ন।
এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, গত কয়েক দিন ধরে পঞ্চগড় জেলায় তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। বর্তমানে তেঁতুলিয়ায় যে তাপমাত্রা বিরাজ করছে, তা মৃদু শৈত্যপ্রবাহের মধ্যেই রয়েছে। আগামী কয়েক দিনেও শীতের এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।