ঢাকা ব্যুরো: সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। বুধবার কমিশনের এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় বেতন ও পেনশনের হার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়িয়ে সুপারিশমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। নতুন এই প্রস্তাবে সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা এবং পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর একটি সভায় পে-কমিশনের কর্মকর্তারা দীর্ঘ পর্যালোচনার পর এই সুপারিশগুলো চূড়ান্ত করেন।
বেতন কাঠামোর আমূল পরিবর্তন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেলে সর্বনিম্ন এবং সর্বোচ্চ বেতনের ব্যবধান কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। সুপারিশ অনুযায়ী, ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, আমলাতন্ত্রের সর্বোচ্চ স্তর অর্থাৎ প্রথম গ্রেডের বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
পেনশনভোগীদের জন্য সুখবর এবারের পে-স্কেলে চাকরিরতদের পাশাপাশি অবসরপ্রাপ্তদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সুবিধার প্রস্তাব দিয়েছে কমিশন। যারা বর্তমানে মাসিক ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পান, তাদের পেনশন শতভাগ বা দ্বিগুণ করার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পেনশন পান এমন প্রবীণদের ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনপ্রাপ্তদের জন্য ৫৫ শতাংশ পেনশন বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসা ভাতার পুনর্বিন্যাস পেনশনভোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসা ভাতাতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ৭৫ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণদের জন্য চিকিৎসা ভাতা বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে, যা বর্তমানে ৮ হাজার টাকা। অন্যদিকে, তুলনামূলক কম বয়সী অর্থাৎ ৫৫ বছরের কম যাদের বয়স, তাদের জন্য এই ভাতা ৫ হাজার টাকা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কবে নাগাদ কার্যকর? পে-কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা ও বিচার-বিশ্লেষণ শেষে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, কমিশনের এই সুপারিশমালা এখন সরকারের উচ্চপর্যায়ে জমা দেওয়া হবে। সেখানে যাচাই-বাছাই ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পরই নতুন এই বেতন কাঠামো ও পেনশনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।
সরকারের এই উদ্যোগ কার্যকর হলে মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা সাধারণ সরকারি চাকুরিজীবী ও পেনশনভোগীদের জীবনে বড় ধরনের স্বস্তি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।