সিলেট ব্যুরো: সিলেটের বিয়ানীবাজারে এক তরুণকে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত সাজিদুল ইসলাম মুন্না নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। আইফোন ছিনতাইয়ের লোভে বন্ধুরাই মিলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে গ্রেপ্তারকৃত আসামীকে সিলেটের একটি আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শুক্রবার বিকেলে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৯।
যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বিয়ানীবাজারের কুড়ারবাজার ইউনিয়নের খশির নামনগর গ্রামের যুবক ইমন আহমদ গত বছরের ৭ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। এর তিন দিন পর ১০ ডিসেম্বর বিয়ানীবাজারের শেওলা ইউনিয়নের একটি পুকুরপাড় থেকে তার হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এই ঘটনায় ইমনের ভাই বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ নিহতের বন্ধু আশরাফুলকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আশরাফুল স্বীকার করেন যে, ইমনের দামী আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তারা ৩-৪ জন বন্ধু। পরিকল্পনা অনুযায়ী ইমনকে নির্জন পুকুরপাড়ে নিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
তদন্ত ও গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই সাজিদুল ইসলাম মুন্না পলাতক ছিলেন। র্যাব-৯ এর মিডিয়া কর্মকর্তা এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানিয়েছেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল থানার কদমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মুন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, মূলত আইফোন ছিনিয়ে নিতেই বন্ধুরা মিলে এই নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছিল। গ্রেপ্তারকৃত মুন্নাকে র্যাব থানায় হস্তান্তর করার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
এই মামলায় জড়িত অন্যান্য আসামীদের বিষয়েও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। আইফোনের মতো একটি ব্যক্তিগত ইলেকট্রনিক গ্যাজেটের জন্য এক যুবককে তার বন্ধুদের হাতেই প্রাণ দিতে হওয়ার এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।