প্রিন্স মন্ডল অলিফ , বাগেরহাট।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৬) সুদখোর হানিফ শিকদার (পিতা– মালেক শিকদার) কর্তৃক সংখ্যালঘু ও অসহায় মানুষদের কাছ থেকে চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে অতিরিক্ত টাকা আদায় এবং দোকান, বাড়ি ও ঘের দখলের অভিযোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
বেন্নাবাড়ী, সোনাখালী, নতুনকালশিরা ও রুইয়ারকুল এলাকার সর্বস্তরের জনগণের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে ভুক্তভোগী সমাপ্তি বিশ্বাস (স্বামী: মিলন বালা) অভিযোগ করে বলেন, “আমি ৫০ হাজার টাকা নিয়েছিলাম। চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিয়ে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছি।”
আরতি বিশ্বাস (স্বামী: মৃত অশোক বিশ্বাস) বলেন, “আমি ৪০ হাজার টাকা নিয়েছিলাম, ৪৩ হাজার টাকা পরিশোধ করেছি।”
সুভাষ মণ্ডল (পিতা: মৃত শুরেন্দ্রনাথ মণ্ডল) বলেন, “৫০ হাজার টাকা নিয়ে আমাকে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে।”
অপূর্ব অধিকারী (পিতা: অনীল অধিকারী) বলেন, “৮০ হাজার টাকা নিয়ে ৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেছি।”
সুমন বালা (পিতা: মৃত নরেন্দ্রনাথ বালা) বলেন, “১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছি।”
অনুপম বালা (পিতা: নরেন্দ্রনাথ বালা) বলেন, “১ লাখ টাকা নিয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছি।”
অসীম বিশ্বাস (পিতা: মৃত নগেন্দ্রনাথ বিশ্বাস) অভিযোগ করে বলেন, “আমি ৬০ হাজার টাকা নিয়ে ৪ লাখ টাকা পরিশোধ করেছি। এরপরও আমার চেক ও স্ট্যাম্প ফেরত দেয়নি। বরং আমার দোকানঘরটি দখল করে নিয়েছে।”
রাধিকা মজুমদার (স্বামী: মৃত প্রভাষ মজুমদার) বলেন, “আমি ৬০ হাজার টাকা নিয়ে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছি। এর স্বাক্ষীও রয়েছে।”
ভুক্তভোগীদের বাড়ি বেন্নাবাড়ী, সোনাখালী, নতুনকালশিরা ও রুইয়ারকুল এলাকার বিভিন্ন স্থানে বলে জানা গেছে।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন স্থানীয় বিএনপি কর্মী দিলীপ বিশ্বাস (পিতা: নগেন বিশ্বাস)। তিনি বলেন, “এই ঘটনাগুলো সম্পূর্ণ সত্য। গ্রামের অসহায়, অশিক্ষিত ও বিপদগ্রস্ত মানুষদের টার্গেট করে চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে সুদের টাকা দেন। পরে তাদের জমাজমি ও সম্পদ কেড়ে নেন।”
রুইয়ারকুল থেকে আগত মাহাবুব মোল্লা (পিতা: মৃত হাবিব মোল্লা) বলেন, “আমরা জানি, এই অভিযোগগুলো পুরোপুরি সত্য।”
সোনাখালী গ্রামের বাসিন্দা ও সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রবিউল শেখ (পিতা: মৃত নুরুল শেখ) বলেন, “ভুক্তভোগীরা যা বলছেন, সবই সত্য। একাধিকবার আমার কাছেও অভিযোগ এসেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রভাবশালী ও ধূর্ত হওয়ায় বিষয়টি সমাধান করা সম্ভব হয়নি।”
মানববন্ধন থেকে বক্তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত, দখলকৃত সম্পত্তি উদ্ধার এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হানিফ শিকদারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।