নিউজ ডেস্ক।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও বিতর্কিত ইউনিট হিসেবে পরিচিত র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাব-এর নাম ও পোশাক পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বাহিনীটির নতুন নাম রাখা হচ্ছে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ (এসআইএফ)। এর ফলে র্যাবের পরিচিত সেই কালো পোশাক আর দেখা যাবে না।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এই পরিবর্তনের কথা জানান। তিনি বলেন, নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি এই বাহিনীর কার্যক্রমেও বড় ধরণের সংস্কার আনা হবে।
২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সন্ত্রাস দমনে বিশেষ বাহিনী হিসেবে র্যাব আলোচনায় থাকলেও, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের অভিযোগে এটি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘ দিন ধরে এই বাহিনী বিলুপ্তির দাবি জানিয়ে আসছিল। এমনকি বর্তমান সরকারের গুম-সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনও এটি বিলুপ্তির সুপারিশ করেছিল। তবে সরকার বাহিনীটিকে বিলুপ্ত না করে খোলস বদলে নতুন রূপে চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজের নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এই নাম পরিবর্তন ও পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা ইতোমধ্যে প্রধান উপদেষ্টা অনুমোদন করেছেন।
এদিকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে প্রায় দুই শ’ অবৈধ অস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আলী হায়দার সিদ্দিকী জানান, পুলিশ ও র্যাবের খোয়া যাওয়া সাড়ে চার হাজারেরও বেশি অস্ত্র এরই মধ্যে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। নির্বাচন চলাকালে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে সারা দেশে ১ লাখ ৬ হাজারেরও বেশি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।
খুব শীঘ্রই র্যাব থেকে এসআইএফ-এ রূপান্তরের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর মাধ্যমে বাহিনীর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে বলে আশা করছে প্রশাসন।