বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নাইমা হায়দার তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। সোমবার সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, তিনি গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বর্তমানে তাঁর পদত্যাগপত্রটি রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে হাইকোর্ট বিভাগের দ্বিতীয় কোনো বিচারপতি হিসেবে তিনি পদত্যাগ করলেন। এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি মামনুন রহমানও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছিলেন।
বিচারপতি নাইমা হায়দার ২০০৯ সালের ৩০ জুন তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। এর ঠিক দুই বছর পর ২০১১ সালে তিনি একই বিভাগের স্থায়ী বিচারক হিসেবে শপথ নেন।
বিচার বিভাগে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ১৯৮৯ সালে জেলা আদালতে এবং পরে ১৯৯৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি উচ্চ আদালতে বিচারিক দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে বিচার বিভাগে একের পর এক বিচারপতির পদত্যাগের ঘটনা নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিচার বিভাগের পুনর্গঠন এবং সংস্কারের যে দাবি উঠেছিল, এই পদত্যাগগুলোকে সেই প্রেক্ষাপটেই দেখছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
তবে পদত্যাগপত্রে বিচারপতি নাইমা হায়দার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেছেন কি না, সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।