ডেস্ক নিউজ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে রমজানের ছুটি মাদরাসার সঙ্গে সমন্বয় করার জোরালো দাবি উঠেছে। শিক্ষকদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিষয়টি এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। শিক্ষা অধিদপ্তর ইঙ্গিত দিয়েছে যে, রোজা রেখে ক্লাস করার ভোগান্তি বিবেচনায় নিয়ে ছুটির তালিকায় পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
চলতি বছরের নির্ধারিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী, মাদরাসাগুলোতে আগামী ১৫ই ফেব্রুয়ারি থেকে রমজানের ছুটি শুরু হলেও সাধারণ স্কুলগুলোতে ৫ই মার্চ বা ১৫ই রমজান পর্যন্ত ক্লাস চলার কথা রয়েছে। ছুটির এই বৈষম্য নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষক সংগঠনগুলোর দাবি, দীর্ঘ সময় রোজা রেখে এবং রাতে তারাবির নামাজ আদায় করে পরদিন শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করা শিক্ষক ও শিক্ষার্থী—উভয় পক্ষের জন্যই অত্যন্ত কষ্টকর। ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট’-এর পক্ষ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) দেওয়া এক আবেদনে এই সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে। আবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছর আটটি সাপ্তাহিক ছুটিকেও বার্ষিক ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা শিক্ষকদের প্রাপ্য ছুটি কমিয়ে দিয়েছে।
মাউশির একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, শিক্ষকদের আবেদনটি ইতোমধ্যে ডিজিটাল নথির (ডি-নথি) মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের রোজা রাখা ও ইবাদতের বিষয়টি বিবেচনা করে মন্ত্রণালয় ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। অধিদপ্তর আশা করছে, আগেকার প্রথা অনুযায়ী রমজানে স্কুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তটিই পুনর্বহাল হতে পারে।
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আগের নির্দেশনা অনুযায়ী ৫ই মার্চ পর্যন্ত স্কুল খোলা থাকবে। এখন দেখার বিষয়, পবিত্র রমজান শুরুর আগেই সরকার শিক্ষকদের এই দাবি মেনে নিয়ে নতুন কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করে কি না।