দেশে সারের জোগান নিশ্চিত করতে এবং সরাবরাহ ব্যবস্থা উন্নত করতে ৫৫ হাজার মেট্রিক টন সার আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের দুই জেলায় নতুন দুটি বাফার গুদাম নির্মাণের পরিকল্পনাও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আমদানিতব্য সারের মধ্যে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ব্যাগড গ্র্যানুলার ইউরিয়া এবং ২৫ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি সার রয়েছে। ইউরিয়া সার কেনা হবে দেশীয় প্রতিষ্ঠান কাফকো থেকে এবং টিএসপি সার আনা হবে তিউনিসিয়া থেকে। এই বিপুল পরিমাণ সার ক্রয়ে সরকারের মোট খরচ হবে প্রায় ৩২১ কোটি টাকা।
২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের চাহিদা মেটাতে কাফকো থেকে প্রতি মেট্রিক টন ৪৩১ মার্কিন ডলার দরে ইউরিয়া কেনা হবে। অন্যদিকে, তিউনিসিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তির আওতায় প্রতি টন ৫৩০ ডলার দরে টিএসপি সার আমদানির প্রস্তাবও সায় পেয়েছে এই বৈঠকে।
সার আমদানির পাশাপাশি তা সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও সময়মতো কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতে মেহেরপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে দুটি নতুন বাফার গুদাম নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেহেরপুর জেলায় ১০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার একটি গুদাম নির্মাণ করা হবে যার ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪০ কোটি টাকা। এছাড়া ঠাকুরগাঁও জেলায় ৫৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার আরেকটি বড় বাফার গুদাম নির্মাণ করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই অবকাঠামো নির্মাণের ফলে সীমান্ত ও কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলগুলোতে সারের সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি দ্রুত বিতরণে সুবিধা হবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ৩৪টি বাফার গুদাম নির্মাণের চলমান প্রকল্পের আওতায় এই নতুন দুটি সাইটের কার্যাদেশ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।