বাংলাদেশে ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গোয়েন্দা রিপোর্টে সহিংসতা, কেন্দ্র দখল এবং ব্যালট ছিনতাইয়ের আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ৯০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরা ২৫ হাজার বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবেন।
ভোটের মাঠে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে থাকছে ৫ লাখ ৭৬ হাজারের বেশি আনসার সদস্য। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন করা হয়েছে এক লাখ সেনাসদস্য। এছাড়া পুলিশ, বিজিবি, র্যাব, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড সমন্বিতভাবে নিরাপত্তার ছক সাজিয়েছে। রাজধানী ঢাকায় ১৬১৪টি কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সারা দেশের ১৩টি সংসদীয় আসনকে ‘অধিক ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে ঢাকা-৭, ৮ ও ১৫ ছাড়াও পাবনা, খুলনা ও চট্টগ্রামের বেশ কয়েকটি আসন রয়েছে। এসব এলাকায় পেশাদার অপরাধী ও শুটারদের গতিবিধি ডিজিটাল পদ্ধতিতে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ সমর্থিত এলাকার কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এসব এলাকায় ভোট বানচালের উদ্দেশ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানো হতে পারে।
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম জানিয়েছেন, ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন সেজন্য তিন স্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানিয়েছেন, ঢাকার দুর্গম এলাকার কেন্দ্রগুলোতে সাধারণের তুলনায় দ্বিগুণ পুলিশ মোতায়েন থাকবে।
অন্যদিকে, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী জানিয়েছেন, ভোটাররা যাতে শঙ্কামুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেজন্য অন্য বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে বিজিবি সীমান্তে ও নির্বাচনি এলাকায় দায়িত্ব পালন করছে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতের প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার একটি অংশগ্রহণমূলক ও সহিংসতামুক্ত ভোট উপহার দেওয়াই প্রশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ।